সারাদেশের পেট্রোল পাম্পে হামলা, ভাঙচুর এবং বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধের জন্য পেট্রোল পাম্প মালিকরা নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ আট দফা দাবি উপস্থাপন করেছেন। এই পরিস্থিতিতে তারা জানিয়েছেন, দৈনিক মোট ১১ ঘণ্টা পাম্প বন্ধ রাখতে চান। পাশাপাশি, জনগণকে জ্বালানি সংকটের গুজবে আতঙ্কিত না হয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ না করার জন্য বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে। এটি মঙ্গলবার রাজধানীর মগবাজারে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতারা জানান।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিতিশীলতার কারণে সরকারের জ্বালানি রেশনিং সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে তারা অঙ্গীকারবদ্ধ। তবে, পাম্পগুলোতে ভিড় ও বিশৃঙ্খলা এড়াতে তারা প্রস্তাব দিয়েছেন, তেল বিক্রির সময়সীমা সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হোক।
তাদের অভিযোগ, দেশের বিভিন্ন স্থানে সঠিক তথ্য না জেনে পাম্পে হামলা, কর্মীদের ওপর নির্যাতন ও প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে, যা খুবই ভাবনার বিষয়। বিশেষত উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের পাম্পগুলোতে পরিস্থিতি বর্তমানে বেশ নাজুক। এ পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে পাম্পগুলোতে পর্যাপ্ত পুলিশি নিরাপত্তা ও প্রশাসনের নজরদারি জোরদার করার দাবি জানানো হয়।
সংগঠনের নেতারা বলেন, কাণ্ডের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত পেট্রোলপাম্প মালিকরা সরকার নির্ধারিত দামে জ্বালানি তেল বিক্রি করে আসছেন। কর্মীরা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু, অনেক জায়গায় সঠিক তথ্য না জানা এবং বেশি তেল সংগ্রহের জন্য হামলা, নির্যাতন ও প্রাণহানির মতো ঘটনা ঘটছে, যা উদ্বেগজনক।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের তথ্যের বরাতে জানানো হয়, দেশে প্রাকৃতিক জ্বালানি তেলের কোনও স্থায়ী সংকট নেই এবং বর্তমানে মজুত পর্যাপ্ত। তবে, সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজবের কারণে গ্রাহকদের অতিরিক্ত তেল সংগ্রহের প্রবণতা বেড়ে যায়, যা সরবরাহ ব্যবস্থাকে ব্যাহত করছে।
মালিকরা স্পষ্ট করে বলেছেন, যদি সবাই কেবল নিজের গাড়ির জন্য তেল সংগ্রহের প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত থাকেন, তবে জরুরি পরিস্থিতিতে অন্য কারো তেল পাওয়া মুখে মুখে হবে না। তাই জনগণের প্রতি অনুরোধ, আতঙ্ক না সৃষ্টি করে সরকারকে সহযোগিতা করুন।
সংগঠনের উত্থাপিত আট দফার মধ্যে প্রধান হলো, পেট্রোল পাম্পে ২৪ ঘণ্টা পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, হামলা ও সহিংসতা রোধে কঠোর আইন গ্রহণ, তেল বিক্রির সময়সীমা নির্ধারণ, ডিপো থেকে সরবরাহের সমন্বয়, ট্যাংকারের ধারণক্ষমতা অনুযায়ী তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা, গুজব রোধে সরকারি মনিটরিং জোরদার করা এবং রেশনিং কার্যকর করতে যারা অপপ্রচার চালাচ্ছে বা দোষারোপ করছে, তাদের থেকে দৃষ্টি ঘোরানো।
সংবাদ সম্মেলনে সাধারণ মানুষকে লাইনে দাঁড়িয়ে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং পাম্পে গিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়।
এছাড়াও, অনুষ্ঠিত হয়, সরকারকে আহ্বান জানানো হয় মনিটরিং ব্যবস্থা আরও জোরদার করার জন্য, যাতে পাম্পে হামলা ও সহিংসতা প্রতিরোধের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়। সংগঠনের নেতারা নিশ্চিত করেছেন যে, নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কঠোরভাবে কার্যকর না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে।






