ফুটবলের বিশ্বমঞ্চে ৪০ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষা শেষ করল ইরাক। আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফের উত্তেজনাপূর্ণ ফাইনালে লাতিন আমেরিকার বলিভিয়াকে ২-১ গোলে পরাজিত করে আগামী ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে স্থান করে নিল পশ্চিম এশিয়ার এই দেশটি। এই ঐতিহাসিক জয়ের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গভাবে চূড়ান্ত হলো টুর্নামেন্টের ৪৮ দেশের তালিকা। ইরাক শেষ বার অংশ গ্রহণ করেছিল ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপে।
ম্যাচের শুরু থেকেই ইরাক আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে ছিল। খেলার ১৮ মিনিটে আলি আলমাহাদির দুর্দান্ত একটি গোলের মাধ্যমে এগিয়ে যায় তারা, যা গ্যালারিতে থাকা ইরাকি সমর্থকদের উল্লাসে পরিণত হয়। হলেও ৩৮ মিনিটে মইসেস পানিয়াগুয়া বলিভিয়ার হয়ে সমতা ফিরিয়ে এনে ম্যাচকে নতুন করে উত্তেজনাপূর্ণ করে তোলে। বিরতির পর আবারও আক্রমণে ফিরে আসে ইরাক এবং ৫৩ মিনিটে আইমেন হুসেইন গ্রুপকে নেতৃত্ব দিয়ে ম্যাচে জয়ী করে দলকে ২-১ গোলের ব্যবধানে এগিয়ে নিয়ে যান। শেষ পর্যন্ত সেই ব্যবধান ধরে রেখে মাঠ ছেড়ে দেয় ইরাকি ফুটবলাররা।
এই রূপকথার মতো প্রত্যাবর্তনের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে প্রশংসা পাচ্ছেন দলের প্রধান কোচ অস্ট্রেলিয়ান গ্রাহাম আরনল্ড। তিনি মনে করেন খেলোয়াড়দের একাগ্রতা, দেশের জন্য কিছু করার মানসিকতা এবং সম্প্রতি আরব আমিরাতের বিপক্ষে জয়ের পর বাগদাদের রাস্তায় নেমে উৎসব করে অনুপ্রাণিত করা জনগণ—এসব মিলিয়েই ঐতিহাসিক এই সাফল্য সম্ভব হয়েছে। আরনল্ডকে নিয়ে বলা হচ্ছে, তিনি একমাত্র অস্ট্রেলিয়ান কোচ হিসেবে নিজের দেশের বাইরে অন্য একটি দলকে বিশ্বকাপে নিতে সক্ষম হয়ে বিরল কৃতিত্ব গড়েছেন।
এবার ইরাকের বিশ্বকাপ ভাগ্যের গ্রুপিংও নিশ্চিত হয়েছে। ‘আই’ গ্রুপে তাদের প্রতিপক্ষ হলো সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স, শক্তিশালী নরওয়ে ও আফ্রিকান শক্তি সেনেগাল। সূচি অনুযায়ী ইরাকের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হবে ১৬ জুন ফক্সবোরোতে নরওয়ের বিরুদ্ধে। এরপর ২২ জুন ফিলাডেলফিয়ায় তারা মুখোমুখি হবে ফ্রান্সের এবং ২৬ জুন টরোন্টোতে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে জায়গার জন্য লড়বে সেনেগালের সঙ্গে।
৪০ বছর পর বিশ্বমঞ্চে ফিরে আসা ইরাক কেবল অংশগ্রহণেই সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না; দল বড় কিছু দেখাতে মুখিয়ে আছে। দেশজুড়ে ফুটবলের উন্মাদনা এবং গর্বে ব্যাপক উৎসব চলছে—বাস্তবিকভাবে এক জাতীয় উদযাপনের পরিবেশ গড়ে উঠেছে। এই জয় শুধুমাত্র একটি ম্যাচ জেতা নয়, বরং ইরাকি ফুটবলের পুনরুজ্জীবন ও দেশের মানুষের জন্য আশা ফিরে আনার প্রতীক বলে মনে করা হচ্ছে।






