অপরিশোধিত তেলের ঘাটতির কারণে চলতি মাসেই দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
জ্বালানি বিভাগের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন জানিয়েছন যে, এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহে অপরিশোধিত তেলের সংকট দেখা দিতে পারে। যদি নতুন চালান না পৌঁছায়, তেল পরিশোধনাগারকে কিছু সময়ের জন্য কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হতে পারে।
রিফাইনারিতে দেখা মজুদের হিসাব অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত মাত্র ২৩ হাজার টন ক্রুড অয়েল ছিল—যা সর্বোচ্চ সাত দিন পরিশোধন চালানোর সক্ষমতা রাখে। এই পরিস্থিতিতে আগামী ৭ এপ্রিলের মধ্যেই উৎপাদন স্থগিত হওয়া ঝুঁকির কথা বলা হচ্ছে।
দেশে সর্বশেষ অপরিশোধিত তেলের একটি জাহাজ ১৮ ফেব্রুয়ারি পৌঁছায়; এরপর থেকে আর নতুন চালান এসে পৌঁছায়নি। দুর্যোগের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা এবং বিশেষত হরমুজ প্রণালিতে সংঘটিত সংঘাত, যা তেল আমদানিতে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে। ইরানকে কেন্দ্র করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা তখনকার জাহাজ চলাচলের ওপর প্রভাব ফেলছে।
তবে বর্তমানে তিনটি তেলবাহী জাহাজ দেশের পথে রয়েছে—তারা কখন পৌঁছাবে তা নিশ্চিত নয়। সাধারণত মধ্যপ্রাচ্য থেকে বাংলাদেশে একটি জাহাজ পৌঁছাতে ১২–১৫ দিন সময় লাগে, তাই এসব চালান কবে কার্যকর হবে তা এখনও অনিশ্চিত।
এই জ্বালানি সংকট ইআরএলের উৎপাদন ও অভ্যন্তরীণ জ্বালানী সরবরাহে প্রভাব ফেলতে পারে, ফলে দ্রুত নতুন চালান আনাসহ সমাধান খুঁজে বের করা জরুরি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং পরিস্থিতির উন্নতি না হলে ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি যোগানেও প্রভাব পড়তে পারে।






