স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘‘স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরে আবার সেই অপশক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। যারা সেইদিন আমাদের মা-বোনদের সম্ভ্রমহানি করেছে, পাকিস্তান বাহিনীর সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে এবং হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে। আমাদের অবশ্যই সতর্ক থেকে সেই অপশক্তিকে পরাজিত করে স্বাধীনতার শক্তিকে সামনে নিয়ে যেতে হবে—এখানেই আমাদের সাফল্য।’’
গতকাল রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিএনপির আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি গভীর আশাবাদ প্রকাশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘আমরা সবাই আমাদের নেতা তারেক রহমানের প্রতি প্রচণ্ড আশাবাদী। তার আগমন মানুষের মধ্যে একটি গভীর অনুভূতি সৃষ্টি করেছে, আশা জাগিয়েছে। দেশে এসে তিনি নিজেই বলছেন—‘I have a plan।’’’ তিনি জানান, নেতার বক্তব্য প্রতিশোধ বা প্রতিহিংসার নয়, বরং একটি পরিকল্পনা নিয়ে দেশের বিধ্বস্ত অবস্থাকে পুনর্গঠন করার লক্ষ্যে কাজ করা।
মির্জা ফখরুল শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শুরু করা কর্মযজ্ঞের কথাও তুলে ধরে বলেন, ‘‘জিয়াউর রহমান যখন দায়িত্বে আসেন, মাত্র সাড়ে তিন বছরের মধ্যে তিনি দেশের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে বদলে দিতে সক্ষম হন। heut তারই যোগ্য পুত্র তারেক রহমান আজ সেই পথ দেখাচ্ছেন।’’
তিনি সকলকে উদ্দেশ্য করে আবেদন জানান, ‘‘আসুন আমরা একজোট হয়ে সব অপশক্তিকে পরাজিত করি, আমাদের নেতা তারেক রহমানের হাত শক্তিশালী করে সামনের দিকে এগিয়ে যাই। অতীতের আক্রোশ ভুলে গিয়ে শুধু অর্জন করে যাই—আমাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ, আমাদের সন্তানদের জন্য একটি নিরাপদ ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ি, যাতে বাংলাদেশ গৌরবের সঙ্গে বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে।’’
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘‘আমরা দীর্ঘ ১৮ বছর বহু নির্যাতন সহ্য করেছি। আমাদের জীবন-পরিচয় নাশ করা হয়েছে, অনেকেই তছনছ হয়েছেন। সামনে থাকা আমার সহকর্মীরা ভয়াবহভাবে নির্যাতিত ও নিগৃহীত হয়েছেন। ৬০ লক্ষ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে, ২০ হাজার তরুণ নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। ইলিয়াস আলীসহ তিনজন নেতা ও প্রায় ১৭শ নেতাকর্মীকে গুম করা হয়েছে। তবু আমরা আমাদের জাতীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্য মাথা নত করিনি—লড়াই চালিয়ে গেছি।’’






