সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, আগামী ঈদে সড়ক ব্যবস্থাপনা সম্পূর্ণভাবে পুনরায় সাজানো হবে যাতে যাত্রী ও যান‑চলাচলের চাপ নির্ভরযোগ্যভাবে পরিচালিত করা যায়। তিনি সোমবার নয়, বুধ(বর্তমান সংবাদে বুধবার) সকালে পূর্বাচল ৩০০ ফিট এক্সপ্রেসওয়ে থেকে মাদানি অ্যাভিনিউ সংযোগ সড়কে অনুষ্ঠিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে এ কথা জানান।
মন্ত্রী বলেন, এবারের ঈদুল আজহার যাত্রা ঈদুল ফিতরের তুলনায় আরও চ্যালেঞ্জিং হবে। কারণ দেড় কোটি মানুষ ঢাকার বাইরে গেলেও এক কোটি কোরবানির পশু ঢাকায় প্রবেশ করবে, যা সড়ক ও পরিবহণ ব্যবস্থায় আলাদা ধরনের চাপ সৃষ্টি করবে। তাই নড়চড়ে প্রস্তুতি ও যুগোপযোগী পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, যোগাযোগ ব্যবস্থাকে শক্ত করা এবং উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নে নতুন করে একটি যমুনা সেতু নির্মাণের সুযোগ যাচাই করা হচ্ছে। এছাড়া নৌ ও সড়ক যোগাযোগের বিকল্প হিসেবে একটি ডেমু ট্রেন পরীক্ষামূলকভাবে আনা হবে; যদি পরীক্ষায় সফল না হয়, তাহলে তা বাস্তবায়নের পর্যায়ে নেওয়া হবে না এবং সরকারের অতিরিক্ত কোনো ব্যয় করা হবে না।
মন্ত্রী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সম্পর্কে বলেন, দেশব্যাপী ব্যাপক এ কর্মসূচির লক্ষ্য পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা। তিনি এ উদ্যোগকে কেবল আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে দেখতে চান না, বরং এটিকে ব্যক্তি পর্যায়ের একটি আন্দোলনে রূপ দিতে সকলকে আহ্বান জানান।
শেখ রবিউল আলম বলেন, দেশের প্রতিটি দপ্তর, মন্ত্রণালয়, প্রতিষ্ঠান, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সাধারণ মানুষকে নিজ অবস্থান থেকে এই দায়িত্ব নিতে হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে তিনি কেবল সূচনাক্রম হিসেবে বিবেচনা করতে বলেছেন—কথার পরেই কাজে রূপান্তরিত করতে হবে।
অনুষ্ঠানে তিনি অপ্রয়োজনীয় জাঁকজমক এড়িয়ে সাশ্রয়ী ও কার্যকর পদ্ধতিতে দেশজুড়ে বাস্তবভিত্তিকভাবে সড়ক ও মহাসড়কে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম দ্রুত শুরু করার নির্দেশ দেন।
সড়ক পরিবহন প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ অনুষ্ঠানে বলেন, সরকারের সুচিন্তিত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে, যা একটি টেকসই ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি সকলের মধ্যে এই উদ্যোগের প্রচার ও জনগণকে উদ্বুদ্ধ করার ওপর জোর দেন, যাতে প্রত্যেকে নিজ‑নিজ স্থানে বৃক্ষরোপণে অংশগ্রহণ করে।
অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক সহ সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রী শেষতঃ বিনীতভাবে সবাইকে দ্রুত, অনাড়ম্বর এবং কর্মক্ষম পদ্ধতিতে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম সংগঠিত করার আহ্বান জানান।






