ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ভুয়া ভূমি উন্নয়ন করের (দাখিলা) রসিদ তৈরি করে দলিল রেজিস্ট্রি করা হচ্ছে—এমন অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীরা বলছেন, দলিল লেখক ও সাব-রেজিস্ট্রারের আন্তঃসর্মথনে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে এ ধরনের জালিয়াতি চলছে।
অভিযোগকারী মো. রিয়াদুল ইসলাম ময়মনসিংহ জেলা রেজিস্ট্রার বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, কান্দানিয়া মৌজার ৯৯৮ বিআরএস খতিয়ানের ৭৮১০ হাল দল বাংলায় ৬ জনের যৌথ মালিকানাধীন ৯০ শতাংশ জমি রয়েছে। গত ২৬ আগস্ট ভুক্তভোগীরা স্থানীয় ইউনিয়ন ভূমি অফিসে জমি সংক্রান্ত একটি নালিশি অভিযোগ দেন। নালিশী দাখিলা না পেয়ে—অভিযোগ অনুযায়ী—জাল জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া দাখিলা তৈরি করে ৮ ফেব্রুয়ারি ফুলবাড়িয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ৮৬৯ নং সাফ কবলা দলিলের মূলে ওই যৌথ মালিকানাধীন ৯০ শতাংশ ভূমির মধ্যে ১৩ শতাংশ ভূমি হস্তান্তর করা হয়। একই কায়দায়, কান্দানিয়া মৌজার হাল দাগ ৩০৩৭ নম্বরে আগেও একটি দলিল (নম্বর ৮৬৮) সম্পাদিত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
রিয়াদুল ইসলাম জানান, সরকারি ওয়েবসাইট ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে যাচাই করে দেখা গেছে ওই ভূমির ওপর হাল সন বা খাজনার কোনো রসিদ সরকারি রেকর্ডে দেওয়া হয়নি। তাই তিনি দাবি করেন, যে দাখিলা দেখানো হয়েছে তা ভুয়া এবং জালিয়াতিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।
দলিল সম্পাদনে যুক্ত ফুলবাড়িয়া সাব-রেজিস্ট্রির দলিল লেখক সোলাইমান অভিযোগ সম্পর্কে বলেন, কান্দানিয়ার এক ব্যক্তির (জহির মহুরী) অনুরোধে তিনি কেবল স্বাক্ষর করেছেন; তিনি নিজে দলিলটির মুল প্রণেতা নন এবং দাখিলার বিষয়ে জানতেন না।
অন্য দিকে ভুয়া ভূমি উন্নয়ন করের রসিদ তৈরি ও দলিল রেজিস্ট্রির অভিযোগ নিয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ তাকী তাজওয়ার ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন দলিল লেখক স্থানীয় সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে দলিল লেখকদের একটি অদৃশ্য কমিশন সিন্ডিকেট গড়ে ওঠার অভিযোগও করেছেন। তারা জানান যে বিভিন্ন নামে আনুষঙ্গিকভাবে অতিরিক্ত অর্থ নেয়া হয়—উদাহরণস্বরূপ বনভূমি সম্পর্কিত এনওসি যাচাইয়ের জন্য দলিল প্রতি ন্যূনতম ৮ হাজার টাকা, প্রথম লাখে ১,৫০০ টাকা ও পরবর্তীতে প্রতি লাখে ৫০০ টাকা, হিস্যার জন্য ১০ হাজার, ভুল সংশোধনের ক্ষেত্রে ১০ হাজার এবং যৌথ দলিলে প্রতি কপি ৫ হাজার টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ আছে।
স্থানীয় কৃষক শাহজাহান সাজু জানান, দীর্ঘদিন ঘুরে একটি দলিল করেছিলেন; সামান্য সমস্যার জন্যও তাকে নির্ধারিত ফি ছাড়াও অতিরিক্ত টাকা দিতে হয়েছে। কুশমাইল পানেভিটা গ্রামের আকবর হোসেন বলছেন, যারা উৎকোচ দিতে অনিচ্ছুক তারা দিনের পর দিন হয়রানির শিকার হচ্ছেন; নিজে কয়েক মাস ধরে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র সম্পন্ন করতে পারছেন না।
ফুলবাড়িয়া উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার রাফায়েল ফাতেমী ইমন দৈনিক বাংলাকে বলেন, দলিলের নামে অতিরিক্ত ফি নেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ভুয়া দাখিলার অভিযোগ পেয়েছেন; আপাতত সংশ্লিষ্ট দলিল লেখক ও অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে নোটিশ দেওয়া হবে। যাচাইয়ে যদি দাখিলা ভুয়া প্রমাণিত হয় তাহলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ময়মনসিংহ জেলা রেজিস্ট্রার পথিক কুমার সাহা জানান, ভুয়া দাখিলা দিয়ে রেজিস্ট্রি সংক্রান্ত অভিযোগ সম্পর্কে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া যে সমস্ত অনিয়মের কথা উঠে এসেছে সেগুলোও ইনকোয়ারি করে খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্ৰহণ করা হবে।
স্থানীয় প্রশাসন ও ভূমি দফতর তদন্ত শেষে যে সিদ্ধান্ত নেবে তা আগামী দিনে নাগরিকদের জানানো হবে।






