যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন ও সামরিক নেতৃত্বে একযোগে হলেও নাটকীয় পরিবর্তন এসেছে—কতিপয় শীর্ষ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছেন সেনাবাহিনীর প্রধান র্যান্ডি জর্জ এবং অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি।
সরকারি ও প্রতিরক্ষা বিভাগীয় সূত্র বলছে, গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সেনাপ্রধান র্যান্ডি জর্জকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নেন বলে পেন্টাগনের বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। পেন্টাগন আনুষ্ঠানিকভাবে এই পদক্ষেপকে ‘অবসর’ হিসেবে উল্লেখ করলেও জেনারেল জর্জের মেয়াদে এখনো প্রায় এক বছর বাকি থাকা প্রসঙ্গটি আলোকপাত যোগ্য।
অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডিকে পদ থেকে সরানোর সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন। সূত্র বলছে, দীর্ঘদিন ধরে বন্ডির কর্মদক্ষতা নিয়ে অসন্তোষই এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইন-সংক্রান্ত কিছু নথি প্রকাশে বিলম্ব ও তা নিয়ে সমালোচনার কারণে ট্রাম্প বন্ডির ওপর অসন্তুষ্ট ছিলেন। পাশাপাশি সমালোচক ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ না নেওয়ায় তার প্রতি অসন্তোষ আরও বেড়েছে।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টোড ব্যালান্স সাময়িকভাবে বিচার বিভাগ পরিচালনা করবেন। যদিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প বন্ডিকে ‘দেশপ্রেমিক’ ও ‘বিশ্বস্ত বন্ধু’ বলে আখ্যা দিয়েছেন, তিনি বন্ডির ভবিষ্যৎ ভূমিকা বা প্রতিস্থাপনের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
নিজের প্রতিক্রিয়ায় বন্ডি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে আরও নিরাপদ করার লক্ষ্যে কাজ করা তার জন্য ‘জীবনের বড় সম্মান’ ছিল এবং তিনি আগামী এক মাসের মধ্যে দায়িত্ব হস্তান্তর সম্পন্ন করবেন। তবুও তার পরিচালনায় বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হয়েছে—এমন অভিযোগও উঠেছে, বিশেষ করে এপস্টেইন-নথি ব্যবস্থাপনায় গোপনীয়তা ও সমন্বয়হীনতা নিয়ে।
এদিকে সেনাবাহিনীর ট্রান্সফরমেশন ও ট্রেনিং কমান্ডের প্রধান ডেভিড হোডনি এবং চ্যাপলিন কোরের প্রধান উইলিয়াম গ্রিন জুনিয়রকেও তাদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে ওয়াশিংটন পোস্ট ও স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপস জানিয়েছে। পেন্টাগন এখনও এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করে নাই।
একসঙ্গে শীর্ষ পর্যায়ের এসব পরিবর্তন নীতিগত ও সাংগঠনিক প্রভাব ফেলতে পারে—বিশেষত সশস্ত্র বাহিনীর নেতৃত্ব এবং বিচার বিভাগের স্বায়ত্তশাসন নিয়ে রাজনৈতিক ও জনমত-আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। আগামী দিনে প্রশাসন থেকে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা বা পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে অতিরিক্ত তথ্য প্রকাশিত হলে পরিস্থিতির যথার্থতা আরও স্পষ্ট হবে।






