বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জে টিসিবির পণ্য ক্রয়ের লাইনে দাঁড়িয়ে কথা-কাটাকাটির জেরে এক যুবককে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। মেহেদী হাসান (২৫) নামের ওই যুবককে গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় উপজেলার কাজিরহাট থানা এলাকায় থাকা বিদ্যানন্দপুর ইউনিয়নের ভূমি কার্যালয় এলাকা থেকে কুপিয়ে আহত করা হয়। ঘটনার পর তিনজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।
আহত মেহেদী হাসান ওই ইউনিয়নের চরমাধব রায় গ্রামের বাসিন্দা এবং তিনি মো. মাসুদ রানার ছেলে। অভিযুক্তরা হলেন একই গ্রামের তিন ভাই—রাশেদ, কাউসার ও ফয়সাল। পুলিশ জানিয়েছে, টিসিবি পণ্য কেনার লাইনে দাঁড়ানোকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটির নেপথ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত।
পুলিশ ও স্থানীয়দের মৃত্যৃনিয়ে পাওয়া তথ্যে বলা হয়, বিকেলে টিসিবি পণ্য বিক্রির সময় মেহেদীর সঙ্গে রমজান এবং রাশেদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। সন্ধ্যায় মেহেদী বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন; পথিমধ্যে ভূমি অফিসের কাছে পৌঁছালে রাশেদ, কাউসার ও ফয়সাল তাকে আটক করে এবং দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। মেহেদীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান।
স্থানীয়রা অভিযুক্ত তিনজনকে ধরে পুলিশের হাতে সোপর্দ করে। আহত মেহেদীর বাবা মাসুদ রানা কাজিরহাট থানায় একটি হত্যাচেষ্টার মামলা দায়ের করেছেন। মাসুদ রানা বলেন, ‘বিকেলে বিদ্যানন্দপুর ৯ নম্বর ওয়ার্ডে টিসিবি পণ্য বিক্রি হচ্ছিল। লাইনের বিষয়ে মেহেদীর সঙ্গে রাশেদ ও রমজানের কথা-কাটাকাটির পরে সন্ধ্যায় তারা মিলে মেহেদীর পথ আটকে এলোপাতাড়ি কুপে ফেলল।’
কাজিরহাট থানার পরিদর্শক দীপঙ্কর রায় জানান, ঘটনার পর মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং অভিযুক্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করে শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকালে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করছে এবং ঘটনার পটভূমি ও সংঘর্ষে ব্যবহৃত অস্ত্রসহ অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করছে।
এই ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়ে উত্তেজনা থাকলেও কর্তৃপক্ষ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে এবং আহত মেহেদীর স্বাস্থ্যগত অবস্থার খবর পাওয়া পর্যন্ত চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে।






