বিশ্ব চলচ্চিত্রের অন্যতম মর্যাদাসম্পন্ন আয়োজনে, ৭৯তম কান চলচ্চিত্র উৎসব আগামী ১২ মে থেকে দক্ষিণ ফ্রান্সের কান শহরে শুরু হতে যাচ্ছে। এ বছরের উদ্বোধনী রাতের প্রিমিয়ার হিসেবে গ্র্যান্ড থিয়েটার লুমিয়েরে-তে নির্বাচিত হয়েছে ফরাসি নির্মাতা পিয়েরে সালভাদোরির নতুন ছবি ‘লা ভেনাস ইলেকট্রিক’—এই বিশেষ প্রদর্শনীর মধ্য দিয়েই আনুষ্ঠানিকভাবে উৎসবের পর্দা উঠবে।
আবহমান কালের মতো এবারও কানের লাল গালিচায় বিশ্বসেরা অভিনয়শিল্পী ও নির্মাতাদের সমাগম সম্পর্কে সিনেমাপ্রেমীদের মধ্যে উৎসাহ ও প্রত্যাশা দেখা যাচ্ছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করবেন মালিয়ান বংশোদ্ভূত ফরাসি অভিনেত্রী আই হাইদারা, যার অভিনয় এবং টিভি-চলচ্চিত্রে নিবিড় উপস্থিতি বহু দর্শকের মনোযোগ আকর্ষণ করে থাকে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি ফ্রান্স টেলিভিশন এবং ব্রুট প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে, ফলে বিশ্বের নানা প্রান্তের কোটি কোটি সিনেমাপ্রেমী এই জমকালো রাতটি অনলাইনে দেখতে পারবেন। উদ্বোধনী প্রদর্শনীর পরই একই দিনে চলচ্চিটিকে ফ্রান্সের সাধারণ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দেওয়া হবে, যাতে সাধারণ দর্শকরাও উৎসবের উৎসবমুখর পরিবেশ উপভোগ করতে পারেন।
পরিচালক পিয়েরে সালভাদোরি তার কাজগুলোতে স্বতন্ত্র হাস্যরস ও মানবীয় সম্পর্কের গভীরতা ফুটিয়ে তোলায় আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত। ‘লা ভেনাস ইলেকট্রিক’-এ তিনি ১৯২৮ সালের প্যারিসকে পটভূমি হিসেবে বেছে নিয়ে একটি রোমান্টিক ও ব্যঙ্গাত্মক কাহিনি নির্মাণ করেছেন। সিনেমাটিতে মানুষের মিথ্যাচার, তীব্র আবেগ ও সম্পর্কের জটিলতা মেলামেশা করে দেখানো হয়েছে; ১৯২০-এর দশকের সুরেলা আবহ এবং আধুনিক চলচ্চিত্র নির্মাণশৈলীর সংমিশ্রণে ছবিটির ভিজ্যুয়াল ও ন্যারেটিভ উভয়ই আলাদা ছাপ রেখে যায়।
কাহিনী কেন্দ্রীয়ভাবে এক তরুণ চিত্রশিল্পীর জীবনকে উপস্থাপন করে। প্রিয়তমার মৃত্যুর পর মানসিকভাবে গভীর আঘাতপ্রাপ্ত এই শিল্পী নিজের সৃষ্টিশীলতা হারিয়ে ফেলেন। এক রহস্যময় নারীর আগমন তাঁর জীবনে নতুন মোড় আনে—প্রথমে সেই নারী কৌশলে তাকে প্রভাবিত করে ও নিয়ন্ত্রণ করতে চায়, কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রতারণার আড়ালে গুপ্তভাবে গড়ে ওঠা অনুভবগুলো বাস্তব ভালোবাসায় রূপ নেয়। মানুষের আত্মিক দ্বন্দ্ব ও কোমল অনুভূতির এমন সূক্ষ্ম উপস্থাপন ইতোমধ্যেই সমালোচক ও দর্শকদের কৌতূহল বাড়িয়েছে।
কানের উদ্বোধনী প্রদর্শনী হলে আলোকচিত্র, সমালোচনা ও ভূগোলিক বিস্তারের সমন্বয়ে ছবিটির বাণিজ্যিক ওশৈল্পিক ভ্রমণ আরও ত্বরান্বিত হবে বলে চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা মনে করছেন। উৎসবের মঞ্চে এই ছবি কিভাবে স্বীকৃতি পাইছে এবং দর্শকদের প্রতিক্রিয়া কেমন হয়—তা আগামী দিনগুলোতে আন্তর্জাতিক সাক্ষাৎকার ও সমালোচনার মাধ্যমে স্পষ্ট হবে।






