জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বলেছেন, বর্তমান সরকার তামাক নিয়ন্ত্রণে আন্তরিকভাবে কাজ করছে এবং তামাক ব্যবহার সম্পূর্ণ নির্মূল করা না গেলেও এর বিস্তার রোধ করা তাদের প্রধান লক্ষ্য। মানবসম্পদ ছাড়া দেশের আর কোনো বড় সম্পদ নেই—সেই সম্পদকে রক্ষা করতে হলে তামাকপ্রসারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি, তিনি জানান।
শনিবার (৪ এপ্রিল) ঢাকার সিআরডিএপি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘নারী স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার আইন শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন চিফ হুইপ। আমন্ত্রণকারী সংগঠন ছিল তামাকবিরোধী নারী জোট (তাবিনাজ) এবং সহায়ক হিসেবে ছিল উন্নয়ন বিকল্প নীতি নির্ধারণী গবেষণা কেন্দ্র (উবিনীগ)।
চিফ হুইপ বলেন, তামাক খেলে ক্ষতি হয়—এ কথা সবার জানা বিষয়। বাংলাদেশ ঘনবসতিপূর্ণ দেশ; একজন তামাক সেবন করলে তার আশেপাশের অনেক মানুষও সমান্তরালভাবে আক্রান্ত হয়। “তামাক রোধের বিকল্প নেই, এখন প্রয়োজন কার্যকর পদক্ষেপ,” তিনি বলেন এবং ওই উদ্যোগকে স্বাগত জানান।
তিনি তামাক খাতে জড়িত বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী পক্ষের কৌশলও তুলে ধরেন। তর্ক করে বলেন, তামাক কোম্পানিগুলো কখনোই নিয়ন্ত্রণ চায় না; তারা পরিবেশ রক্ষার নামে প্রচারণা চালায়—“গাছ লাগান, পরিবেশ বাঁচান” স্লোগান দেখালেও বিজ্ঞাপনের নিচে ব্রিটিশ আমেরিকান ট্যোবাকোর নামে উল্লেখ থাকে। তামাক চাষিদের উদ্দেশে তিনি সুপারিশ করেন যে, “আপনি কেন তামাক চাষ করবেন? তামাকের বদলে অন্য ফসল চাষ করুন।”
চিফ হুইপ আরো বলেন, প্রযুক্তিগতভাবে অনেক উন্নতি হয়েছে—ভয়েজার-১ ও ২-এর মতো প্রযুক্তি ৭০-এর দশকেই তৈরি হলেও মানুষ এখনও হার্ট অ্যাটাকে মরে। চিকিৎসা প্রযুক্তিতে উন্নয়ন থাকা সত্ত্বেও হৃদরোগের জটিলতা কাটাতে আমরা যথেষ্ট অগ্রগতি অর্জন করতে পারিনি; এই অভাব অনিবার্য নয়, বরং তা পরিচালিত বাণিজ্যিক স্বার্থের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে, তার আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
একটু ভিন্ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কখনো কখনো নেতিবাচক প্রচারণার ফল আশ্চর্যভাবে বিপরীত হতে পারে। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন—হেরোইন বা ইয়াবা বিরোধী প্রচারণা কিভাবে তরুণদের মধ্যে আগ্রহ বাড়িয়েছে। তামাকের ক্ষেত্রেও সাদৃশতাটি লক্ষ্য করা যেতে পারে, তাই পদক্ষেপ নেওয়ার সময় এ দিকগুলোর প্রশিক্ষিত ও সূক্ষ্ম পরিকল্পনা জরুরি।
আয়োজকদের উদ্দেশ্যে তিনি পরামর্শ দেন, ২০০৫ সালে প্রণীত তামাকবিরোধী আইন কার্যকর ছিল এবং বিএনপি সরকারের সময় টেলিভিশনে তামাক বিজ্ঞাপন বন্ধ করা হয়েছিল। সিগারেটের ক্ষতি, আইনের প্রয়োজনীয়তা এবং জনস্বার্থে আপনাদের সহযোগিতা—এই তিনটি বিষয় তুলে ধরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি পাঠানোর সুপারিশ করেন তিনি। চিফ হুইপ বলেন, প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং দেশের সকল মানুষের কল্যাণের কথা ভাবেন।
অনুষ্ঠানে ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী বক্তব্য প্রদান করেন। তাবিনাজ ও উবিনীগের নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমকর্মীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।






