দীর্ঘ উত্তেজনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতির ঐতিহাসিক সমঝোতা হয়েছে, যেখানে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় ছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তবে শান্তির এই সুযোগের মধ্যেই হরমুজ প্রণালী নিয়েও নতুন এক অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত সামনে এসেছে — ইরান ও ওমান মিলিতভাবে এই নৌপথ ব্যবহারকারী বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে ট্রানজিট ফি আদায়ের পরিকল্পনা করছে।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিমের উদ্ধৃতিতে মার্কিন সংবাদের সংস্থা সিএনএন জানিয়েছে, দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতি চলাকালে তেহরান ও মাস্কাট হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর নির্দিষ্ট হারে ফি আরোপের বিষয়ে ঐকমত্য করেছে। সংগৃহীত অর্থ যুদ্ধের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্গঠনে খরচ হিসেবে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
গোয়েন্দা প্রতিবেদনের উদ্ধৃতিতে বলা হচ্ছে, ইরান প্রত্যেকটি জাহাজের পারাপারের জন্য প্রায় ২০ লাখ মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৪ কোটি টাকার সমমান) পর্যন্ত দাবি করতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো মালিকানা প্রতিষ্ঠান বা শিপিং কোম্পানি এই ধরনের বিশাল অঙ্কের টোল পরিশোধ করেছে কি না, তা নিশ্চিত করা যায়নি।
স্মরণযোগ্য যে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া উত্তেজনার কারণে এই নৌপথটি কার্যত বন্ধের কगारে চলে গিয়েছিল; বর্তমানে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় মাত্র প্রায় পাঁচ শতাংশ জাহাজই এই রুট ব্যবহার করছে। তার মধ্যেই কিছু দেশ, যেমন ভারত ও পাকিস্তান, দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে তাদের পতাকাবাহী জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে।
নতুন এই টোল ব্যবস্থার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে নৌ-বাণিজ্য ও অর্থনীতিবিদদের মধ্যে আলোচনা তীব্র। বিশ্লেষকেরা বলছেন, নিয়মিতভাবে ট্রানজিট ফি আরোপ হলে জাহাজচালনার খরচ বাড়বে, বাণিজ্যের পরিবহণ মূল্য বৃদ্ধি পেতে পারে, শিপিং রুট পুনর্বিবেচনা বা পরিবর্তনের আশঙ্কা দেখা দেবে এবং বীমা খরচও বৃদ্ধি পেতে পারে। এছাড়া আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনৈতিক সম্পর্কের দিক থেকেও জটিলতা তৈরি করতে পারে।
অবশ্য এই প্রস্তাব বাস্তবায়ন কবে ও কীভাবে হবে, আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া কেমন হবে এবং শিপিং কোম্পানিগুলো কী করণীয় গ্রহণ করবে—এসব বিষয়ে এখনই নিশ্চিত সিদ্ধান্ত নেই। ফলে পরবর্তী দিনের ঘটনাবলী, ঘোষিত হার, দাবিদার প্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।






