প্রবাসীদের কর্ম হারিয়ে দেশে ফিরে আসার পর নতুন কর্মসংস্থানের জন্য সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। তিনি এসব কথা প্রকাশ করেন বুধবার (৯ এপ্রিল) সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিহত প্রবাসী শাহ আলমের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের সময়। শামা ওবায়েদ বলেন, “নিহত প্রবাসীর লাশ কুমিল্লায় নিয়ে যেতে এবং দাফনের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে খরচ করা হবে। দেশের বাইরে থাকা প্রবাসীরা দেশের জন্য গর্বের বিষয় এবং সরকার তাদের পাশে রয়েছে। ভবিষ্যতেও যদি কোনো সমস্যা হয়, সেটিও দেখা হবে।” তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ চায় এই যুদ্ধ অবিলম্বে বন্ধ হোক এবং বিশ্বক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত ডিপ্লোমেসির মাধ্যমে এই পরিস্থিতির সমাধান সম্ভব হোক।” আফগানিস্তান বা অন্যান্য দেশের পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, কিরগিস্তানে আটকে পড়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের শিগগিরই নিরাপদে দেশে ফেরানোর জন্য সরকার সব ধরনের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, “পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে এবং আটকে পড়া শিক্ষার্থীদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে আলোচনা চলছে।” পাশাপাশি, তিনি বলেন, “যুদ্ধের কারণে যারা প্রাণ হারাচ্ছেন, তাদের লাশ পরিবারের কাছে ফেরত দেওয়ার জন্য সরকার সব ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছে। যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে প্রবেশ ও বসবাসের জটিলতায় পড়া বাংলাদেশি প্রবাসীদের ভিসা সংক্রান্ত সমস্যা ও অন্যান্য অজুহাত মোকাবেলা করতে সরকার সচেতন। যারা কাজের জন্য বিদেশে গিয়েছিলেন এবং সংকটের কারণে আটকা পড়েছেন, তারা যেন আবার ফিরে যেতে পারে সেজন্য ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়েও আমরা মনোযোগ দিচ্ছি।” প্রবীণ শ্রমিকদের পুনর্বাসন ও নতুন কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা প্রসঙ্গে শামা ওবায়েদ বলেন, “সরকারের মূল অঙ্গীকারের মধ্যে রয়েছে দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। যারা কর্ম হারিয়ে দেশে ফিরছেন, তাদের ভালভাবে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে, যারা বিদেশে ফিরে যেতে চান, তাদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য কাজ চলছে। আমাদের লক্ষ্য হলো, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও কর্মীর জীবনমান উন্নত করার জন্য আরও বেশি সুযোগ সৃষ্টি করা।” এইভাবে, সরকার প্রবাসীদের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও তারা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।






