টালিউডে দশ বছরেরও বেশি সময় ধরে অভিনয় ও প্রযোজনার শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন জনপ্রিয় নায়ক দেব। সকল বাধা–চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে অসংখ্য হিট ছবি উপহার দেওয়ার পর এবার নিজে পরিচালকের আসনে বসতে যাচ্ছেন তিনি। আগেই কয়েকটি ছবিতে ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকলেও, এটি দেবের প্রথম পূর্ণাঙ্গ চলচ্চিত্র পরিচালনা হচ্ছে — আর এই খবরেই টালিউড জুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
দেব তাঁর পরিচালিত প্রথম ছবির কেন্দ্রীয় নারী চরিত্রে বেছে নিয়েছেন বহুদিনের সফল সহকর্মী ও জনপ্রিয় অভিনেত্রী শুভশ্রী গাঙ্গুলীকে। দর্শকদের কাছে ‘দেব–শুভশ্রী’ জুটি সবসময়ই আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু; এই জুটি ইতিমধ্যেই ছয়টি ছবিতে একসঙ্গে দর্শকদের মন জয় করেছে। দীর্ঘ বিরতির পর গত বছরের ‘ধূমকেতু’ মুক্তি পাওয়ার পর তাদের রসায়ন আবারও বোঝাতে পেরেছে যে দর্শক এখনও এই জুটিকে গ্রহণ করেন — সেই আস্থা থেকেই শুভশ্রীকে প্রথম পরিচালিত ছবির প্রধান নারী চরিত্রে নেওয়া হয়েছে।
আরেকটি বড় চমক হিসেবে ছবিতে আছেন অনির্বাণ ভট্টাচার্য। ফেডারেশন সংক্রান্ত দীর্ঘ প্রশাসনিক দ্বন্দ্বের কারণে তিনি কিছুদিন টালিউডে অঘোষিতভাবে অনুপস্থিত ছিলেন; ‘রঘু ডাকাত’ ছবির পর তাঁকে বড় পর্দায় দেখা যায়নি। অনির্বাণকে ফিরিয়ে আনার পিছনে দেব ব্যক্তিগতভাবে কূটনৈতিক ভূমিকা পালন করেছেন — তিনি আর্টিস্ট ফোরামের কার্যকরী সভাপতি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের কাছে বিষয়টি সমাধানের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা দিয়ে ছিলেন। প্রসেনজিতের পক্ষ থেকে সম্মতি আসার পরই অনির্বাণের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত হয়। অনির্বাণ কোন চরিত্রে দেখানো হবে তা এখনও গোপন রাখা হয়েছে, কিন্তু তাঁর প্রত্যাবর্তনকে অনেক চলচ্চিত্রজ্ঞানী ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখছেন।
প্রাথমিকভাবে ছবির নাম রাখা হয়েছে ‘দেশু ৭’, তবে চূড়ান্ত নামকরণ এখনো চূড়্যপূর্ণ হয়নি। এই প্রজেক্টে দেব কেবল পরিচালনা ও অভিনয়ই করবেন না, তিনি চিত্রনাট্যকার হিসেবেও কাজ করবেন — অর্থাৎ প্রযোজনা, পরিচালনা, অভিনয় ও লেখার চারটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় একসঙ্গে দেখা যাবে তাঁকে।
নির্মাণের স্কেলে এই ছবিটি মেগা প্রজেক্টের রূপ নিচ্ছে: সূত্রে জানা গেছে জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে প্রায় ৫০ দিন দৃশ্যধারণ চলবে। টেকনিক্যাল কাজে অংশ নেবেন প্রায় ১০ হাজার টেকনিশিয়ান — যা বাংলা সিনেমার ইতিহাসে বলেই রাখা যায় এক বিরল ঘটনা।
সবকিছু ঠিক থাকলে দেবের এই স্বপ্নের প্রজেক্টটি আগামী দুর্গাপূজায় মুক্তি পাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পরিচালকের আসনে দেবের অভিষেক, শুভশ্রীর সঙ্গে তাদের পুরনো রসায়ন এবং নিষিদ্ধতার পর অনির্বাণের ফেরা—এসব মিলিয়ে ‘দেশু ৭’ ইতিমধ্যেই পূজার সবচেয়ে প্রতীক্ষিত ছবির তালিকায় উঠে এসেছে। আধুনিক নির্মাণশৈলী ও শক্তিশালী কাস্টিং মেলালে দেব টালিউড বাণিজ্যে নতুন কোনো রেকর্ড গড়তে পারেন কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই ছবির মাধ্যমে দেবের ক্যারিয়ার নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে।






