গণভোটের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের জন্য জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। ‘দেশের চাবি আপনার হাতে’ শিরোনামে একটি প্রচারাভিযান শুরু করে রাজস্ব বিভাগের প্রধান উপদেষ্টা কার্যালয়। এই প্রচারাভিযানের মূল লক্ষ্য হলো জনগণকে স্পষ্টভাবে বুঝানো যে, ভোট দিয়ে কি কি পরিবর্তন অর্জন করা সম্ভব এবং এর ফলে দেশের রাজনৈতিক কাঠামো ও ব্যবস্থাপনায় কি ধরনের নতুন দিগন্ত খোলা হবে।
এখানে মূল প্রশ্নটি উঠেছে—‘আপনি কি এমন বাংলাদেশ চান যেখানে…’ এবং তার বিপরীতে ১১টি মূল সংস্কারের কথা বলা হয়েছে, যা সম্পাদনের মাধ্যমে দেশের স্বাভাবিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। এই সংস্কারগুলোর মধ্যে রয়েছে টত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন ও সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি) গঠনে সরকারি দল ও বিরোধী দলের একযোগে কাজ; সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের জন্য গণভোটের বিধান চালু; বিরোধী দলের ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সভাপতির নির্বাচনে অংশগ্রহণ; সর্বোচ্চ ১০ বছরের বেশি একজন প্রধানমন্ত্রী থাকতে না পারা; সংসদে নারীর অংশীদারিত্ব বৃদ্ধি; ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা করার জন্য উচ্চকক্ষের পার্লামেন্ট গঠন; স্বাধীন বিচারব্যবস্থার প্রতিষ্ঠা; নাগরিকদের মৌলিক অধিকারে ইন্টারনেটে অবাধ প্রবেশাধিকার; রাষ্ট্রপতির ক্ষমা বৈধতা ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা। যদি ‘হ্যাঁ’ ভোট দিন, তবে এই সব পরিবর্তন আপনার হাতের নাগালে আসবে; আর ‘না’ ভোট দিলে কিছুই পরিবর্তন হবে না। মনে রাখবেন, এই পরিবর্তনের চাবি এখন আপনার হাতেই।
গণভোটের জন্য সচেতনতামূলক প্রচারণার অংশ হিসেবে প্রধান উপদেষ্টা কার্যালয় একটি স্পষ্ট কৌশল গ্রহণ করেছে। এ জন্য একটি বিশেষ সেল খোলা হয়েছে, যার মুখ্য সমন্বয়কের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ। এই সেলের মাধ্যমে নগর ও শহরাঞ্চলের জনবহুল স্থানে ডিজিটাল ও ম্যানুয়াল বিলবোর্ডের মাধ্যমে গণভোটের বিষয়বস্তু প্রচার করা হবে।
প্রচার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গত বৃহস্পতিবার দেশের সব বড় শহর ও গুরুত্বপূর্ণ পৌরসভায় আয়োজিত এক সভায় দেশের বিভিন্ন সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার কর্মকর্তারা উপস্থিত হন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসকেরা শারীরিক উপস্থিত থাকলেও অন্যরা অনলাইনের মাধ্যমে যুক্ত ছিলেন। এই সভায় মনির হায়দার বলেন, ঢাকাসহ বড় শহরগুলোর প্রবেশপথ ও জনবহুল এলাকায় ডিজিটাল বিলবোর্ডের মাধ্যমে গণভোটের বিষয়বস্তু প্রচার করতে হবে; পাশাপাশি মোড়লিশের ইমাম ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের মাধ্যমে জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
অলী রীয়াজ সবাইকে অনুরোধ করেন, গণভোটের লোগো সর্বত্র প্রচার করতে যেন এটি মানুষের মনে প্রচণ্ড আলোড়ন সৃষ্টি করে। আগামী ৭ দিনের মধ্যে এই লোগো, গণভোটের ব্যালট ও লিফলেট প্রচার নিশ্চিত করতে হবে; এর জন্য স্থানীয় পর্যায়েও প্রচার কর্মসূচি জোরদার করতে বলা হয়েছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য ও কন্টেন্টগুলো যেন বার বার এবং বিভিন্ন স্থানে প্রচারিত হয়, তার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়। এই উদ্যোগের মাধ্যমে জনগণকে ভোটের গুরুত্বের ব্যাপারে জানানো ও সচেতনতা বৃদ্ধি করতে চায় সরকার। এই অবদান আপনাদেরই হাতে।






