আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) আসনের জন্য মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে ভোটার যাচাইকরণ ও মনোনয়নপত্র বিশ্লেষণে কর্মকর্তারা। জাতীয় পার্টির (জাপা) সাবেক মহাসচিব ও বর্তমান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ পক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান মুজিবুল হক চুন্নুর মনোনয়নপত্র এই সিদ্ধান্তের আওতায় এসেছে। রোববার জেলার সদরের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা এই ঘোষণা দেন। চুন্নুর মনোনয়ন বাতিলের পেছনে দুটি মূল কারণ উল্লেখ করা হয়েছে, প্রথমত তাঁর সমর্থিত জাপার একাংশের মহাসচিব রুহুল আমীন হাওলাদারের স্বাক্ষর সম্পর্কিত জটিলতা, এবং দ্বিতীয়ত ব্যাংক ঋণে খেলাপি থাকাও। একই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি জাহাঙ্গীর আলম মোল্লার মনোনয়নও বাতিল হয়েছে, কারণ তাঁর জমা দেয়া ভোটারের সংখ্যার তথ্যে অসংগতি পাওয়া গেছে।
কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে চুন্নু সহ আরও বেশ কয়েকজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী এ কে এম আলমগীরের ভোটার সংখ্যা সংক্রান্ত গরমিল, ও গণতন্ত্রী পার্টির দিলোয়ার হোসেন ভূঁইয়ার দলীয় প্রধানের স্বাক্ষর জটিলতার কারণে তাঁদের প্রার্থিতা অবৈধ ঘোষণা করা হয়। তবে অন্যদিকে, এই আসনে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মুহাম্মদ ওসমান ফারুক, জামায়াতে ইসলামীজ জেহাদ খান, এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আলমগীর হোসাইনসহ ছয়জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ হিসেবে গৃহীত হয়েছে। ফলে, এই আসনে জাপার বড় প্রার্থী ও নেতার অনুপস্থিতিতে নির্বাচনী সমীকরণ নতুন করে এগোতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে।
একই দিনে কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনেও বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। এই আসনে, জেলা বিএনপির সাবেক স্পেশাল জজ মো. রেজাউল করিম খান, সাবেক সহসভাপতি রুহুল হোসাইন, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেলসহ ছয়জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তাঁদের প্রত্যেকেরই ভোটার তালিকা ও তথ্যের ত্রুটি পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম ও জামায়াতে ইসলামীর মোছাদ্দেক ভূঞাসহ সাতজনের মনোনয়ন বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি, কিশোরগঞ্জ-২ (পাকুন্দিয়া-কটিয়াদী) আসনে বিএনপির আইনজীবী জালাল উদ্দীন ও জামায়াতের শফিকুল ইসলামের মনোনয়ন বৈধ হলেও, গণ অধিকার পরিষদের শফিকুল ইসলামসহ অন্য পাঁচজনের মনোনয়ন বাতিল হয়।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা জানান, শনি ও রবিবার মিলিয়ে কিশোরগঞ্জের মোট ছয়টি সংসদীয় আসনের ৬১ প্রার্থী মনোনয়নপত্র যাচাই করেছেন। এর মধ্যে ভুল তথ্য, স্বাক্ষর না থাকা, ঋণখেলাপি ও ভোটার তালিকায় অসঙ্গতিসহ নানা কারণের জন্য ২৫ জনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। বাতিল করা প্রার্থীরা এখন নির্বাচন কমিশনের কাছে আপিল করার সুযোগ পাবেন। পরিস্থিতি বর্তমানে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে হেভিওয়েট প্রার্থীদের বাতিল হওয়া নিয়ে নানা বিশ্লেষণ চলছে। এখন বৈধ প্রার্থীরা তাদের প্রচারণার পরবর্তী প্রস্তুতি নিচ্ছেন।






