পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক কাজী মো. সায়েমুজ্জামানের নেতৃত্বে মাত্র দুই মাসের মধ্যে জেলাব্যাপী প্রাপ্ত পরিবর্তনগুলো মানুষের চোখে পড়ার মতো হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত থাকাকালীন যোগাযোগ ব্যবস্থা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন নগর পরিবেশ এবং পরিবেশ দূষণের মতো সমস্যাগুলো ধীরে ধীরে সমাধান হচ্ছে। এই ধারাবাহিক উদ্যোগের ফলে পঞ্চগড় এখন উন্নয়ন ও সুশাসনের নতুন দিশায় এগিয়ে চলেছে। এক সময় শহরের সড়কগুলো ছিল চলাচলের জন্য অযোগ্য, যেখানে ধুলাবালি, বালির স্তূপ এবং ময়লার স্তূপ ছিল প্রতিদিনের সাধারণ দৃশ্য। বিশেষ করে শুকনো মৌসুমে ধুলার কারণে শহরবাসী জীবনযাত্রায় মারাত্মক বিপর্যয় মোকাবিলা করত। তবে এখন সেই চিত্র পাল্টে গেছে। পৌরসভার উদ্যোগে প্রতিদিন গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে পানি ছিটানো হচ্ছে, আর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য জোরদার করা হয়েছে বিভিন্ন কার্যক্রম। পাশাপাশি বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সহযোগিতায় নগর পরিচ্ছন্নতার জন্য সমন্বিত অভিযান চালানো হচ্ছে। রাস্তার দুই পাশে জমে থাকা বালির স্তূপ ও ময়লা নিয়মিতভাবে পরিস্কারের মাধ্যমে শহরের পরিবেশ সুস্থ হচ্ছে। পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষা ও জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে কঠোরতর পদক্ষেপ নেন জেলা প্রশাসন। বেশ কিছুটি অভিযান চালিয়ে অবৈধ ইটভাটাগুলো ভেঙে ফেলা হয় এবং এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়। প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা শুধু পরিবেশের জন্যই নয়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নেও নজরদারি চালানো হচ্ছে। সম্প্রতি পঞ্চগড় ট্রাক টার্মিনালে এক দুঃখজনক সড়ক দুর্ঘটনায় এক শিক্ষিকা মারা যান, এতে স্থানীয়রা ক্ষোভে বিক্ষোভ করলে জেলা প্রশাসক তাৎক্ষণিক ঘটনা স্থলে যান এবং পরিস্থিতি শান্ত করেন। আর রেলস্টেশনের একটি রেলক্রসিংয়ে মাইক্রোবাসচালকের মৃত্যুতে রেল যোগাযোগ বন্ধের ঘটনায় তিনি দ্রুত উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন। এসব দ্রুত ও বলিষ্ঠ উদ্যোগের কারণে সাধারণ মানুষের আস্থা বৃদ্ধি পেয়েছে। উন্নয়নের পাশাপাশি অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ খাত চা-শিল্পেও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সবুজ চা-পাতার মূল্য নির্ধারণ সভায় সিদ্ধান্ত হয়, পঞ্চগড়ে প্রতিটি কেজি সবুজ চা-পাতার দাম ২৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৮ টাকা নির্ধারণ করা হবে। এতে দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত চা-চাষিরা স্বস্তিতে পড়েছেন। এছাড়া, চা-চাষিদের জন্য নিবন্ধন কার্যক্রম বাধ্যতামূলক করে আনা হচ্ছে, যা আগামী দুই মাসের মধ্যে সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে। নিবন্ধন ছাড়া কোনো চা-চাষি সরকারি সহায়তা পাবেন না এবং তাদের উৎপাদিত চা কারখানা কিনতেও বাধ্যবাধকতা থাকবে। আরো বলা হয়েছে, চা-চাষিরা আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ নেবে, যাতে উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং মানের উন্নয়ন হয়। তদ্ব্যতীত, সবুজ চা-পাতার কর্তন ও বিপণনের সময়সীমাও নির্ধারণ করা হয়েছে। অনুযায়ী, আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সবুজ চা-পাতার কর্তন শেষ করতে হবে। এর পরে কোনো কারখানা সবুজ চা-পাতা কিনতে পারবে না, নিয়ম অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই তারিখের পর সংগৃহীত চা-পাতা দিয়ে গ্রিন টি উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। বাংলাদেশ চা বোর্ড এই কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করবে। এ সব উদ্যোগের ধারাবাহিকতা ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ চালু থাকলে পঞ্চগড় হবে একটি শক্তিশালী, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও সম্ভাবনাময় জেলা, যেখানে ব্যবসা-বাণিজ্য, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং চা-শিল্প বহু গুণ এগিয়ে যাবে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, প্রশাসনের দৃশ্যমান উপস্থিতি ও কঠোর তদারকি এ জেলার উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।






