বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, যা দেশের নিরাপত্তা ও সামাজিক শান্তির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ, আজ বিজয় সম্মিলনে এক অনন্য মাইলফলক উদযাপন করছে। ৫০ বছর ধরে নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবী শক্তির মাধ্যমে গাজীপুরের সফিপুরে আনসার ও ভিডিপি একাডেমিতে এ ইতিহাসের মহত্ত্ব স্মরণে একটি বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানটি উদযাপন করেন বাহিনীটির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ, যিনি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই মহৎ দিনটির উদ্বোধন করেন।
উপস্থিত সকলের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে মহাপরিচালক তাঁদের উদ্দেশ্যে বলেন, ভিডিপির গৌরবময় ইতিহাস, বর্তমানে তারা যে অবদান রাখছে এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তিনি স্পষ্ট দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের তৃণমূল পর্যায়ে শান্তি, নিরাপত্তা ও সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষা করার লক্ষ্যে ৬০ লাখেরও বেশি স্বেচ্ছাসেবক সদস্যের এই সংগঠন দেশের অভ্যন্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
মহাপরিচালক আরও বলেন, ‘‘ভিডিপি দেশের গণপ্রতিরক্ষার একটি শক্তিশালী স্তম্ভ। স্বেচ্ছাসেবী সদস্যরা আইন প্রয়োগ, অপরাধ দমন, নারীর ক্ষমতায়ন, মাদক ও বাল্যবিবাহ বিরোধী কার্যক্রম, নির্বাচনী সহায়তা, ধর্মীয় নিরাপত্তা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও উদ্ধার কাজে নিষ্ঠা ও সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।’’
৫০ বছর পূর্তি ও সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানে মহাপরিচালক আরও জানান, আধুনিক প্রশিক্ষণ ও সহজ ঋণ সুবিধার মাধ্যমে ভিডিপির সদস্যরা কৃষি, মাছের সার্বিক উন্নয়ন, কুটির শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশের সুযোগ পাচ্ছে। এ উদ্যোগগুলো ব্যক্তিগত স্বাবলম্বিতা বাড়ানোর পাশাপাশি সমাজ ও অর্থনীতির স্বাভাবিক প্রবৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখছে।
এছাড়াও, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, বিটাক ও সহজ ডটকমের সাথে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাধ্যমে ভিডিপি এবং তদ্বিপ সদস্যদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করে দেশের বেকারত্ব কমানো ও বিদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করায় নজর দেয়া হচ্ছে। মহাপরিচালক বলেন, ইতোমধ্যে এই ‘সঞ্জীবন’ প্রকল্পের পরীক্ষামূলকভাবে দেশের ১২টি জেলায় চালু হয়েছে, যা দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা আরও শক্তিশালী করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আধুনিক প্রশিক্ষণে গৃহীত সংস্কারমূলক উদ্যোগের অংশ হিসেবে, ভিডিপির সদস্যদের জন্য ডিজিটাল ডাটাবেজ এভিএমআইএস প্রবর্তনের বিষয়েও আলোকপাত করেন তিনি। এর মাধ্যমে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি ও যোগ্য সদস্যদের দায়িত্বে নিয়োগ সহজ হয়ে উঠছে। তরুণদের মধ্যে দেশপ্রেম ও সক্ষমতা বিকাশের জন্য যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ মডিউল চালু করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতের শক্ত ভিত রচনা করছে।
অপরদিকে, বাহিনী প্রধান বলেন, ‘‘আমাদের সবাইকে যুগে যুগে দেশের জন্য সাহস, শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেম নিয়ে কাজ করতে হবে। তাই ভিডিপিকে আরও শক্তিশালী, প্রশিক্ষিত ও সুশৃঙ্খল বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে সবাইকে একত্রে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই। এতে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ আরও শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উন্নত হবে।’’
দিবসটি উত্সবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয় পায়রা উড়িয়ে, কেক কাটায় এবং বিশেষ বর্ণাঢ্য র্যালির মধ্য দিয়ে। উল্লেখ্য, ১৯৭৬ সালের এই দিনে গাঁঠে থেকে শুরু হয় ‘শান্তি-শৃঙ্খলা ও সামাজিক নিরাপত্তা’ মূল লক্ষ্য নিয়ে ভিডিপির গৌরবময় যাত্রা।
উৎসবমুখর এই অনুষ্ঠানটি দেখভাল করেন বাহিনীর অতিরিক্ত মহাপরিচালক ও বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, কর্মচারী বিপুলসংখ্যক সদস্যসহ। এই দিনটি স্মরণীয় করে রাখার জন্য সবাই অংশ নেয় এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে।






