কুমিল্লা জেলার বুড়িচং উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নে এই মৌসুমে বাঁধাকপির ব্যাপক এবং উন্নত ফলন হয়েছে। শীতের শুরুতেই আগাম চাষের মাধ্যমে কৃষকরা এই ফলন পেয়েছেন, যা তাদের কাছ থেকে অসাধারণ লাভের আশা জাগিয়েছে। উর্বর মাটি এবং অনুকূল আবহাওয়া এই সাফল্যের মূল কারণ বলে কৃষকদের অভিমত।
এলাকায় এখন কৃষকরা নিড়ানি ও নিয়মিত পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। যদিও কীটনাশকের দাম বৃদ্ধি এবং উৎপাদনের খরচ বেশি হওয়ায় কিছুটা ঝুঁকি থাকলেও, এবারের ফলন প্রেরণাদায়ক হওয়ায় তারা আশা করছেন, এবার লোকসান নয়, বরং লাভই হবে।
উদাহরণস্বরূপ, রাজাপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ গ্রামের কৃষক ফজর আলীর ছেলে আক্কাস জানান, তিনি চলতি মৌসুমে ৩৯ শতক জমিতে বাঁধাকপি চাষ করে আশানুরূপ ফলন পেয়েছেন। আক্কাসসহ অন্যান্য কৃষকেরা বলছেন, ভালো ফলনের জন্য তারা দিনরাত মাঠে পরিশ্রম করেন, যা ফলন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তারা আরও বলেন, বীজ, সার, সেচ এবং শ্রমিকের চোখে চোখে খরচ অনেক হলেও যদি বাজারে ন্যায্য মূল্য পাওয়া যায়, তবে এটি সহজেই পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব। তবে কখনো কখনো কীটনাশকের উচ্চ মূল্য ও বাজারে দাম কম থাকলে লোকসানের আশঙ্কা দেখা দেয়। এ বছর ফলন ভালো হওয়ায় সেই ধরনের ঝুঁকি অনেকটাই কমে গেছে।
আক্কাস বলেন, তিনি প্রায় ৬০ হাজার টাকা খরচ করে ৩৯ শতক জমিতে বাঁধাকপি চাষ করেছেন এবং উৎপাদিত ফসল বিক্রি করে খরচের দ্বিগুণ লাভের আশা করছেন।
বুড়িচং উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা বলেন, ‘শীতকালে বাঁধাকপির জন্য এই এলাকার মাটি ও আবহাওয়া অত্যন্ত উপযোগী। কৃষি অফিসের পরামর্শ অনুযায়ী আগাম চাষের ফলাফল ইতিবাচক, যা এরই মধ্যে ভালো ফলন নিশ্চিত করেছে। আমরা আশাবাদী, এবার কৃষকরা ভালো লাভ করবেন।’
কুমিল্লার অন্যান্য এলাকা থেকেও কৃষকেরা বলছেন, এই মৌসুমে বাঁধাকপির ফলন ভালো হওয়ায়, গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ লাভের সম্ভাবনা রয়েছে।






