দীর্ঘ এক প্রায় দুই দশক পর নিজ জেলার ঠাকুরগাঁওয়ে পা রাখতে যাচ্ছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এই জনপ্রিয় নেতা তার নিজ রাজ্যে আবারও আগমনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। ইতিমধ্যে তিনি লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিলেও, সশরীরে এই প্রথম তাঁর প্রত্যাবর্তন জনমনে নতুন প্রাণের আভাস জুগিয়েছে। ২০০৩ সালের শীতকালিন সময়ে তিনি ঠাকুরগাঁওয়ে কম্বল বিতরণের মতো একটি একান্তেই ব্যক্তিগত কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন। দীর্ঘ এই দুই দশকের বেশি সময় পরে তাঁর এই সফর উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক দৃশ্যে নতুন উৎসাহ ও উদ্দীপনা যোগ করেছে।
জেলা বিএনপি সূত্র জানিয়েছে, তারেক রহমানের এই সফরের মূল উদ্দেশ্য হলো শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতি স্মরণ ও গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া তরুণদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো। তিনি আগামী ১২ জানুয়ারি সড়ক পথে ঠাকুরগাঁওয়ে পৌঁছাবেন এবং শহরের ব্যুরো বাংলাদেশ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে রাত্রিযাপন করবেন। পরের দিন সকাল ১০টায় তিনি শহীদ আল মামুনের কবর জিয়ারত ও পরিবারের সদস্যদের সাথে সাক্ষাত করবেন। সময়ের অভাবে অন্য শহীদদের কবর জিয়ারত সম্ভব না হলেও, তাদের ত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি এক বিশেষ তীর্থযাত্রা করবেন।
এর পাশাপাশি, মঙ্গলবার সকালে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয় মাঠে এক বিশাল স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। এই অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য হলো সদ্যপ্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার শান্তি কামনা। সেখানে তারেক রহমান তৃণমূল নেতাকর্মীদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করবেন। এই কর্মসূচি শেষে তিনি পার্শ্ববর্তী জেলা পঞ্চগড়ের দিকে রওনা হবেন। জেলা বিএনপির নেতারা জানান, নির্বাচনি আচরণবিধি মেনে বড় কোনো জনসমাবেশের পরিবর্তে এই দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে নেতাকে স্বাগত জানানো হবে।
দুর্গম নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যার নিরাপত্তা এনেছে জেলা পুলিশ। পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন নিশ্চিত করেছেন যে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের এই সফর কেবলমাত্র রাজনৈতিক আবেগের ব্যাপার নয়, বরং ভবিষ্যতের জাতীয় নির্বাচনে দলের সংগঠন ও শক্তি বাড়ানোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হতে পারে। জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা আশাবাদী, এই সফরে তারা সাধারণ মানুষের মধ্যে দলের দর্শন এবং আদর্শের শক্তি আরো বৃদ্ধি করতে পারবেন। মূল লক্ষ্য হলো শহীদদের সম্মান জানানো ও হারানো গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের অঙ্গীকার পুনরায় ঘোষণা করা। এভাবেই তিনি আবারো ফিরে আসছেন শেকড়ের কাছে, নেতাকর্মীদের মাঝে উন্নত দেশের স্বপ্ন ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের বার্তা নিয়ে।






