ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে প্রকৃতি এখন শীতের আঁচে কাঁপছে। এক সময় শীতের শুরুতে বাংলার ঘরে ঘরে শুরু হতো নানা ধরনের পিঠা তৈরির খামখেয়ালী। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে আড়ালে চলে গেছে সেই ঐতিহ্য, ধীরে ধীরে বিলুপ্তপ্রায় হয়ে উঠছে। তবে নরসিংদীর পলাশে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়েছে এক মনমুগ্ধকর গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী পিঠা উৎসব। এই উৎসবের মূল উদ্দেশ্য হলো বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাংলার প্রাচীন পিঠার ঐতিহ্যসহ পরিচিত করানো। শীতের সূচনা লগ্নে, গ্রামবাংলার সংস্কৃতি, আর বাঙালির মাতৃভূমির আবেগপ্রবণতা এই পিঠা উৎসবের মাধ্যমে ধ্বনিত হয়েছে। আজকের দিনব্যাপী এ উৎসবের আয়োজন করে পলাশ রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল ও কলেজ।
উৎসবে স্থান পেয়েছে বহু প্রাচীন ও বিলুপ্তপ্রায় পিঠার রকমফের। এতে ছিল দুধচিতই, দুধপুলি, কমলা পুলি, ইলিশ পিঠা, বউ পিঠা, পুলি পিঠা, নিমপাতা পিঠা, নকশি পিঠা, পানতুয়া পিঠাসহ মোট শতাধিক ধরনের পিঠা। বিশেষ করে এই উৎসবে অংশ নিয়েছে ১০টি স্টল, শুরু হয়েছে সকাল ১১টায় এবং চলেছে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। বিলুপ্তপ্রায় পিঠাগুলোকে নতুন রূপে দেখতে পেয়ে অনেকেই খুবই খুশি হয়ে সবাই অপার আনন্দে মেতে উঠেছেন। শীতের ঠাণ্ডা উপেক্ষা করে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, এলাকার সাধারণ মানুষ, সুধীজন এবং রাজনীতিবিদরা মিলেই এই উৎসবের প্রাণোচ্ছ্বলতা বাড়িয়েছেন।
অতিথিরা নানা পেশার মানুষ, কেউ দেখছিলেন, কেউ পছন্দের পিঠা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। একসঙ্গে এত পিঠা দেখার সুযোগ পেয়ে অনেকের পুরনো স্মৃতির ঝলক ধরে গেছে। পলাশ রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল ও কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ আরিফ পাঠানের মতে, এই পিঠা উৎসবের মূল লক্ষ্য হলো দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে লালন ও প্রবৃদ্ধি করা। এটি বাঙালির শত শত বছরের সমৃদ্ধ ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা পরম স্পৃহায় পরিবেশিত হয়েছে এই ধরণের উৎসব মাধ্যমে।






