ভোলা জেলার লালমোহন উপজেলায় জালিয়াতির মাধ্যমে অনুমোদনবিহীনভাবে বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি সামনে আসার পর মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর 5টি মাদ্রাসার প্রধানের ডিসেম্বর মাসের বেতন স্থগিত করেছে। এ ঘটনায় নিপুণভাবে নীতিমালা ভাঙা ও জাল স্বাক্ষর করে সহকারী শিক্ষক (গ্রন্থাগারিক ও তথ্যবিজ্ঞান) পদে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে, মাসের বেতন বা বিল প্রস্তুতকালে ওই সহকারী শিক্ষকদের নাম বাদ দেওয়া হয়, যার কারণে তাদের মার্চের বেতন আটকে গেছে।
বেতন স্থগিত হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানরা হলেন করিমগঞ্জ ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোঃ রুহুল আমিন, ভেদুরিয়া সেরাজিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোঃ সফিউল্যাহ, পূর্ব চরছকিনা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মোঃ কামাল উদ্দিন, মুসলিমিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মোঃ কামাল উদ্দিন জাফরী ও পূর্ব ধলীগৌরনগর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মোঃ সাইফুল ইসলাম।
অপরদিকে, নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকরা হলেন করিমগঞ্জ ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার আকলিমা বেগম, ভেদুরিয়া সেরাজিয়া ফাজিল মাদ্রাসার বিল্লাল, পূর্ব চরছকিনা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার মোঃ বাহার, মুসলিমিয়া দাখিল মাদ্রাসার মোঃ জামাল, ও পূর্ব ধলীগৌরনগর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার মোঃ রিয়াজ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এসব মাদ্রাসার প্রধানরা অভিযোগ করেন, কাঠগড়ায় তারা নিয়মবহির্ভূতভাবে পুরোনো তারিখের নিয়োগবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ বা জাল স্বাক্ষর করে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ দিয়ে থাকেন। এ যাবৎ সেই নিয়োগগুলো বেতনভুক্ত হলে অভ্যন্তরীণ অন্যান্য শিক্ষকদের মাঝে বিরূপ ভাব সৃষ্টি হয়। পরে, ওই নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক ও তাদের বেতন বাতিলের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
আলোচনায় জানা যায়, পূর্ব চরছকিনা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মোঃ কামাউল উদ্দিনের বিরুদ্ধে একটি অডিও ক্লিপ ভাইরাল হয়, যেখানে স্বাক্ষর জাল করানোর কথা স্বীকার করা হয়। এর মধ্যে একজন ম্যানেজিং কমিটির সদস্যও প্রকাশ্যে দাবি করেন, মাদ্রাসা বোর্ডের স্বাক্ষর জাল করে নিয়োগ দেওয়া হয়। বর্তমানে মোঃ কামাউল উদ্দিন তজুমদ্দিন-ভোলার আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়বেন।
প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা জানান, তারা কোনো নোটিশ পাননি বা কোনো ব্যাখ্যাও খুঁজে পাননি কেন তাদের বেতন স্থগিত করা হয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মীর আবুল খায়ের বলেন, তিনি খালি এটাই শুনেছেন যে, পাঁচটি মাদ্রাসার প্রধানের বেতন স্থগিত হয়েছে, কিন্তু দাপ্তরিক কোনো চিঠি হাতে পাননি। অন্যদিকে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ শাহ আজিজ জানান, তিনি এই বিষয়টি বিভিন্ন পত্রিকা থেকে জানতে পেরেছেন, তবে অফিসিয়ালি কোনো চিঠি বা আদেশ এখনও তার কাছে প্রবাহিত হয়নি। স্বচ্ছতার জন্য তিনি আশা প্রকাশ করেন, তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






