প্রায় সাড়ে সাত বছর পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে একটি জাহাজের মাধ্যমে চট্টগ্রামের বন্দরে আবির্ভূত হয়েছে উচ্চমানের ভুট্টা। বুধবার (৭ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে সদরঘাটের কনফিডেন্স সিমেন্ট ঘাটে এই ভুট্টার চালানটির খালাসের কার্যক্রম শুরু হয়। এই চালানটি ২০২৫-২৬ মৌসুমে নর্থ ডাকোটা, সাউথ ডাকোটা এবং মিনেসোটায় উৎপাদিত ৫৭,৮৫৫ টন হলুদ ভুট্টা নিয়ে এসেছে, যা ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের ভ্যাংকুভার বন্দর থেকে জাহাজে পাঠানো হয়েছে। এই আন্তর্জাতিক সরবরাহ বাংলাদেশের পশুখাদ্য উৎপাদনকারীদের জন্য নতুন একটি সুযোগ সৃষ্টি করেছে, কারণ দীর্ঘ বিরতির পর এই প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চমানের ভুট্টার আমদানি সম্ভব হচ্ছে। দেরিতে হলেও এই ভুট্টার আমদানির জন্য সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্যগুলো থেকে হয়, যেখানে আমদানি-রপ্তানি প্রতিষ্ঠানগুলো একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই প্রাপ্তির খুশি উদযাপন করে। এই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের অ্যাগ্রিকালচারাল অ্যাটাচে এরিন কোভার্টসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। কোভার্ট বলেন, ‘এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের একটি দিন। দীর্ঘ আট বছর পর আবার বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চমানের ভুট্টা আসছে। এর মাধ্যমে আমাদের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে।’ তিনি আরও জানান, এই প্রথম শিপমেন্টের মাধ্যমে বাংলাদেশে আসছে ২০২৫-২৬ মৌসুমে উৎপাদিত ভুট্টা, যা প্রায় ৫৭ হাজার টন। এই ভুট্টা আমদানি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম শীর্ষ শস্য রপ্তানিকারক কোম্পানি ইউনাইটেড গ্রেইন করপোরেশন (ইউজিসি)। বাংলাদেশের তিনটি বড়ো কোম্পানি—নাহার অ্যাগ্রো গ্রুপ, প্যারাগন গ্রুপ এবং নারিশ পোলট্রি অ্যান্ড হ্যাচারি লিমিটেড—এগুলি থেকে ভুট্টা সংগ্রহ করেছে। এসব ভুট্টা অবশেষে এসেছে এমভি বেলটোকিও নামে এক জাহাজে, যা ৩১ ডিসেম্বর কুতুবদিয়া পৌঁছায়। এরপর ছোট আকারের লাইটার জাহাজে করে চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ এবং নোয়াপাড়া ছাড়িয়ে বিভিন্ন গন্তব্যে রওনা হয়। বুধবারের রাখার অনুষ্ঠানে এই ভুট্টার খালাসের উদ্বোধন করেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। নাহার অ্যাগ্রোর এমডি রাকিবুর রহমান টুটুল বলেন, ‘আমরা এখন যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরাসরি ভুট্টার চাহিদা মেটাতে পারছি। বাংলাদেশে প্রয়োজনের ৩০ শতাংশ ভুট্টা আমাদের দেশীয় উৎপাদনের দ্বারা পূরণ হয়, বাকিটা আমদানি করতে হয়।’ তিনি উল্লেখ করেন, তিন মাস আগে আমেরিকা থেকে চালানটি ক্রয়ের সময় লাগে প্রায় ৪৫ দিন, তবে এখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে সতেজ ও দ্রুত সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে, যা আগে ভারত বা ব্রাজিল থেকে আনা হতো। তিনি জানান, এই চালানের দাম প্রতি টন ২৪৬ ডলার। মূলত, এই উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের ভুট্টার চাহিদা পূরণের কাজ আরও সহজ হবে বলে প্রত্যাশা করছে সবাই।






