যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য বাংলাদেশের নাগরিকদের ওপর ‘ভিসা বন্ড’ বা মোটা অংকের জামানত আরোপের সিদ্ধান্তকে তিনি অত্যন্ত দুঃখজনক ও কষ্টকর বলেছেন। তবে একই সঙ্গে এই সিদ্ধান্তকে অস্বাভাবিক না বলে অভিহিত করেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক জরুরি আলোচনায় তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি আরো ব্যাখ্যা করেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও অভিবাসন সংকটের প্রেক্ষাপটে মার্কিন সরকারের এই পদক্ষেপের সাথে অনেকটাই পরিচিতি। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র কেবল বাংলাদেশের জন্য নয়, বরং বিশ্বের আরও ৩৭টি দেশের ওপর এই ভিসা বন্ড বা জামানত ব্যবস্থা চালু করেছে। এই দেশগুলোর নাগরিকদের মধ্যে অনেকের অভিবাসনের জন্য নির্দিষ্ট সময়ের অতিরিক্ত অবস্থান ও ওভারস্টে হার অনেক বেশি।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন মার্কিন কৌশলের এক গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, যারা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা বা সোশ্যাল সিস্টেম থেকে সুবিধা গ্রহণ করেন, তাঁদের মধ্যে বাংলাদেশের নাগরিকদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। তাই, যখন মার্কিন প্রশাসন নির্দিষ্ট কিছু দেশের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করে, তখন বাংলাদেশের নামটিরও অপ্রত্যাশিত নয়। এই অবস্থায় তিনি মনে করেন, এটি আমাদের জন্য এক বড় বার্তা এবং জাতীয় মর্যাদার দিকে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে তিনি এই পরিস্থিতির জন্য বর্তমান সরকারকে দায়ী করেন না, বরং দীর্ঘদিনের অভিবাসন নীতি ও জনশক্তি রপ্তানির ভুলনীতির ফল বলে মন্তব্য করেন।
উপদেষ্টা বলেন, গত এক বছরে যদি অভিবাসনের নেতিবাচক প্রবণতা বৃদ্ধি পেত, তখন বোঝা যেত বর্তমান সরকারের দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। কিন্তু এই সংকট দীর্ঘ সময় ধরে তৈরি হয়েছে, যার জন্য পুরোনো সরকারের অবহেলা ও ভুলনীতির ফলাফল এটি। তাঁর মতে, মানুষ বিদেশে যাওয়া বা অবৈধভাবে থাকার প্রবণতা এক রাতের ব্যাপার নয়; এটি একটি কাঠামোগত সমস্যা, যা বছর খানেকের মধ্যে গেঁথে গেছে।
অবিশ্বাসিত অভিবাসনের ক্ষতিকর দিক নিয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার শুরু থেকেই অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। তিনি মনে করেন, অনিয়মিত অভিবাসন বন্ধ করাই এই ধরণের আন্তর্জাতিক অসম্মান ও কঠোরতার মূল সমাধান। মাঝেমধ্যে সংবাদমাধ্যমে দেখা যায়, বাংলাদেশিরা ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে মৃত্যুবরণ করছে বা উদ্ধার হচ্ছে, যা খুবই বেদনাদায়ক। তবে, এই পরিস্থিতি আইন লঙ্ঘনেরই সমান, এবং এতে মানবিক সহানুভূতি থাকা উচিত। অবৈধ পথে বিদেশে যাওয়া এড়ানোর জন্য তিনি প্রত্যেক নাগরিকের প্রতি আইন মেনে চলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সঠিক অভিবাসন নীতিই বর্তমানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এর মাধ্যমে দেশের স্বনাম ও আন্তর্জাতিক সম্মান বজায় রেখে মানবিক ও নিয়মতান্ত্রিক অভিবাসন নিশ্চিত করা হবে।






