স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আজিজুর রহমান মুছাব্বিরকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় নেওয়া তদন্তের তথ্যে উঠে এসেছে, এই খুনের পেছনে অবিজ্ঞানীরা পরিচিত। নিহত মুছাব্বিরের সাথে যোগ ছিল পাঁচজন, যারা পেশাদার ভাড়াটে শুটার। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ নিশ্চিত করেছে, এই হত্যাকাণ্ডটি ছিল পরিকল্পিত। বুধবার রাতে কারওয়ান বাজারের স্টার হোটেলের পাশে একটি গলিতে এই হামলা চালানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। একই ঘটনায় তার সঙ্গে থাকা তেজগাঁও ভ্যানশ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান ব্যাপারী গুলিবিদ্ধ হন এবং বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। এই ঘটনায় তদন্ত চললেও পুলিশ, ডিবি, র্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো গোপন তথ্য সংগ্রহে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। সুরতহাল প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোছাব্বিরের দেহে গুলির জখমের চিহ্ন রয়েছে। তার পেটের ডান পাশে আধা ইঞ্চির ছিদ্র, ডান কনুইয়ের পেছনে আর বাম হাঁটুতে জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রত্যক্ষদর্শী মন্টু জানান, গুলির শব্দ শোনার কিছু সময় পরই তিনি মোছাব্বিরকে দৌড়ে আসতে দেখেছেন, আর সেই সময় তিনি বলে যাচ্ছেন, ‘তোরা করলিডা কি আমারে?’ এরপর ভাই পড়ে গেলে তিনি তাকে উদ্ধার করেন। মন্টু আর কিছু বলতে পারেননি। তার মাথায় পানি দিয়ে চিকিৎসার চেষ্টা চালাচ্ছেন পাশের দোকান থেকে আনা পানি। তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে চাঁদাবাজি, রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ও দখলসংক্রান্ত বিষয়গুলো উল্লেখযোগ্য। গোয়েন্দাদের সূত্র মতে, মূল মোটিভ হলো স্থানীয় রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ও কারওয়ান বাজারের চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ। ২০২৪ সালের আগস্টের আগ পর্যন্ত এই বিষয়গুলো নিয়ে সংঘর্ষ চলছিল। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পাঁচজন এই হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে তিনজন সরাসরি গুলি চালিয়েছে, অন্য দুইজন মূলসড়কে মোছাব্বিরের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছিল। গোয়েন্দাদের দাবি, এই শুটাররা সবাই পেশাদার, স্থানীয় নয়। ঘটনার পর ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আবদুল মজিদ মিলন ও যুবদলের সহসভাপতি মো. ফারুক হোসেনকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মিলনকে ছাড়লেও ফারুক এখনো আটক। র্যাবও আটক করেছে রনি ও মন্টুর মতো দুজনকে। একই সঙ্গে তেজগাঁও থানাও তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। উল্লেখ্য, পুলিশ আরো জানায়, ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে তেজগাঁও যুবদলের বহিষ্কৃত সদস্যসচিব আবদুর রহমান। ঘটনাটি এখন তদন্তের কেন্দ্রে রয়েছে, আর খুঁজে পাওয়া হচ্ছে প্রতিপক্ষের দায়ীদের।






