জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ফের বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি দলটির বাগেরহাট সদর উপজেলা শাখার প্রধান সমন্বয়ক আলী হুসাইনসহ মোট ১২ জন নেতাকর্মী একযোগে পদত্যাগের ঘোষণা করেছেন। রবিবার (১১ জানুয়ারি) দুপুরে বাগেরহাট প্রেস ক্লাবে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে তাঁরা এই পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পদত্যাগকারী নেতাদের মধ্যে উপজেলা কমিটির যুগ্ম সমন্বয়ক কাজী মাহফুজুর রহমান এবং অন্যান্য বিভিন্ন পর্যায়ের সক্রিয় সদস্যরা রয়েছেন। তারা বলছেন, এই পদত্যাগের মূল কারণ হলো সংগঠনের বর্তমান গতি ও দিশা, এবং রাজনৈতিক সমীকরণের অসামঞ্জস্যতা।
আলী হোসাইন লিখিত বক্তব্যে বিস্তারিত তুলে ধরেন, তিনি জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের ৩ জুন থেকে তিনি বাগেরহাট সদর উপজেলা শাখার দায়িত্বে ছিলেন। তিনি বলেন, ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে নতুন বাংলাদেশ গড়ার আকাঙ্ক্ষা ও অঙ্গীকার নিয়ে এনসিপির যাত্রা শুরু হয়েছিল, বর্তমানে সেখান থেকে বহু দূরে চলে গেছে দলটির বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি। তাঁর মতে, দলের স্বপ্নের সেই ‘নতুন বন্দোবস্ত’ এবং আদর্শ এখন কার্যত লোপ পেয়েছে এবং পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে দলের মূল আধার ও দৃষ্টিভঙ্গি ক্ষতিগ্রস্ত। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, বর্তমানে এনসিপির রাজনৈতিক অবস্থান তাঁর ব্যক্তিগত দর্শনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে পড়েছে, ফলে দলের সঙ্গে তার আর থাকা সম্ভব নয়।
সংবাদ সম্মেলনে আলী হুসাইনের সাথে পদত্যাগের ঘোষণা দেন যাঁরা, তাঁরা হলেন—যুগ্ম সমন্বয়ক কাজী মাহফুজুর রহমান, সদস্য আশিকুর রহমান সুমন, শেখ রাসেল, শেখ মিজানুর রহমান, মো. হাসান শেখ, মো. শহিদুল ইসলাম, শেখ জাহিদুল ইসলাম, শেখ নাবিল হোসেন, মো. জনি, মুনিয়া আক্তার জেনি ও মো. রাতুল আহসান। পদত্যাগকারীরা অভিযোগ করেন, যেই আদর্শের জন্য তাঁরা স্বপ্ন দেখতেন, সেই পথ ধরে দেশের স্বাধিকার ও রাজনৈতিক স্বাধিকার আন্দোলন চালিয়ে যেতে চান, কিন্তু এখন এনসিপি সেই পথ থেকে সরে এসে নিজের মূল আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়েছে। নির্বাচনের প্রাক্কালে উপজেলা পর্যায়ের এই গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের পদত্যাগের ফলে বাগেরহাট অঞ্চলে দলের সাংগঠনিক ভিত্তি বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় কমিটির কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায়নি।





