আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্ব প্রস্তুতির অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক) আসনের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গেছে। চন্দনাইশের দোহাজারি এলাকায় লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)-র দুই শতাধিক নেতাকর্মী আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-তে যোগদান করেছেন। এটি অনুষ্ঠিত হয়েছে গত সোমবার দোহাজারির রূপনগর কমিউনিটি সেন্টারে এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে। এই দলবদলে এলডিপির অনেক শীর্ষস্থানীয় নেতা-কর্মী অংশ নেন, তাঁদেরকে ফুল দিয়ে অভ্যর্থনা জানান বিএনপির চট্টগ্রাম-১৪ আসনের মনোনীত প্রার্থী জসিম উদ্দিন আহমেদ ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব লায়ন হেলাল উদ্দিন। এই ঘটনা স্থানীয় বিএনপি রাজনীতিতে নতুন উৎসাহ ও উৎসবের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।
যোগদানকারী নেতাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন দোহাজারি পৌরসভার সিনিয়র সহ-সভাপতি নাছির উদ্দিন, দপ্তর সম্পাদক আবদুস সবুর এবং গণতান্ত্রিক স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক জাকের মাওলা। তাঁদের নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক কর্মী ব্যানার, ফেস্টুন এবং প্ল্যাকার্ড নিয়ে অনুষ্ঠানে অংশ নেন, পুরো এলাকাটি ধানের শীষের স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে। বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনের কাছাকাছি অবস্থানে এই ঢল ও যোগদান বিএনপির ধানের শীষের শক্তিকে আরও সুসংহত করবে এবং ভোটের লড়াইয়ে বড় প্রভাব ফেলবে।
বিএনপির প্রার্থী জসিম উদ্দিন আহমেদ বলেন, এই যোগদান ধানের শীষের পক্ষে গণজোয়ারের বহিঃপ্রকাশ। তিনি আশ্বাস দেন, বিএনপি ও তার কাজের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সহযোদ্ধারা বুঝতে পারছেন যে, দেশের মুক্তি কেবল বিএনপির মাধ্যমে সম্ভব। তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, এই সময়টি দেশ ও জাতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সকল দল ও মতের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে এবং বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাত কে বেশি শক্তিশালী করতে এই আসনটি তাঁকে উপহার দিতে হবে। লায়ন হেলাল উদ্দিনও নতুন নেতাদের অভিনন্দন জানিয়ে, সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
এ লক্ষ্যে চন্দনাইশ উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন বিএনপি ও তাদের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ব্যাপক পরিমাণে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রধান নির্বাচনী সমন্বয়কারী এমএ হাশেম রাজু, বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট নাজিম উদ্দিন, নুরুল ইসলামসহ অন্যান্য জ্যেষ্ঠ নেতারা। বক্তারা আশ্বাস দেন, এলডিপির এই বিশাল জনশক্তির অন্তর্ভুক্তির ফলে মাঠ পর্যায়ে নির্বাচনী প্রচারণায় নতুন গতি আসবে। তারা আশা করছেন, এই ঐক্যবদ্ধ শক্তির মাধ্যমেই চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া আংশিক এলাকায় বিএনপির বিজয় নিশ্চিত হবে। এই বড় শোডাউন মূলত চট্টগ্রামে বিএনপির সাংগঠনিক শক্তির জোড়ালো প্রকাশ।






