বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন সাবেক রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে অনেক সংগ্ৰাম ও নির্যাতন সহ্য করেছেন, তবে কখনো অসচেতন অভিযোগ করেননি। ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক স্মরণসভায় তিনি উল্লেখ করেন যে, খালেদা জিয়ার হৃদয়স্পর্শী ব্যবহারে সবাই মুগ্ধ হন এবং তার নেতৃত্ব এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে দক্ষিণ এশিয়ায় অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। এই স্মরণসভা আয়োজন করে মেক্সিকোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী।
স্মরণসভার আলোচনায় মার্শা বার্নিকাট বলেন, তিনি বহুবার খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পেয়েছেন। চরম বিপদ ও সংকটকালীন মুহূর্তেও তার মনোবল অটুট ছিল, তিনি ছিলেন হাস্যোজ্জ্বল ও আন্তরিক। বার্নিকাট বলেন, খালেদা জিয়া ছিলেন অত্যন্ত নম্র ও অমায়িক প্রকৃতির একজন মানুষ, যিনি সর্বদা বাংলাদেশের জনগণের কল্যাণে কাজ করেছেন। মার্কিন এই রাষ্ট্রদূত মনে করেন, যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, ততদিন মানুষ খালেদা জিয়ার ঐতিহ্য, তার অবিস্মরণীয় লিগ্যাসি এক জন্য স্মরণ করবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী খালেদা জিয়াকে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক সংগ্রামের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং দেশের স্বাধিকার ও সার্বভৌমত্বের এক অটুট অবলম্বন হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, যখন দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংসপ্রাপ্ত এবং বিরোধী মতের কণ্ঠ রুদ্ধ ছিল, তখন খালেদা জিয়া সাহসিকতার সঙ্গে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের মানবাধিকার রিপোর্টের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি খালেদা জিয়ার অতীতের রাজনৈতিক বন্দিত্বকে গভীর ষড়যন্ত্রের ফলশ্রুতি হিসেবেও চিহ্নিত করেন।
আলোচনায় আরো অংশ নেন সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজেন। তিনি প্রশংসা করেন খালেদা জিয়ার অমায়িক ব্যক্তিত্বের। বলেন, অসুস্থ শরীরে ও অসহনীয় কষ্টে অধ্যুষিত হলেও তিনি তার সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন। বিরোধী দলে থাকাকালেও তিনি সবাইকে যোগাযোগের রাস্তা খুলে দিয়েছেন। মজেন মনে করেন, খালেদা জিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ উন্নতি ঘটেছে। এ ছাড়া, ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবের সভাপতি মার্ক শেফ, ওয়াশিংটনে নিযুক্ত বাংলাদেশের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তজা এবং এপি-র সাবেক সম্পাদক ম্যারন বিলকাইন্ডসহ আন্তর্জাতিক মিডিয়ার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এবং খালেদা জিয়ার সংগ্রামী জীবনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন।






