ফুটবল বিশ্বের দুই মহাতারকা লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দ্বৈরথ দেখতে অপেক্ষা করছিলেন কোটি ফুটবলপ্রেমী। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ হল না। পিএসজি ছাড়ার পরে আর্জেন্টাইন তারকা মেসি সৌদি আরবের বিভিন্ন উচ্চপ্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকার (MLS) কে বেছে নিলেন। সম্প্রতি জানা গেছে, সৌদি ক্লাব আল-ইত্তিহাদ তাকে দলে ভেড়াতে প্রস্তাব দিয়েছিল প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার, যা তিনি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।
আল-ইত্তিহাদের প্রেসিডেন্ট আনমার আল হাইলি এক সাক্ষাৎকারে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, পিএসজি ছেড়ে যাওয়ার পরে মেসির জন্য তারা অনেক বেশি আগ্রহী ছিলেন। তাদের প্রস্তাব ছিল বছরে প্রায় ১৪০ কোটি ইউরো বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা। আল হাইলি উল্লেখ করেন, টাকার কোনও সীমাবদ্ধতা বা সমস্যা ছিল না। যদি মেসি রাজি হতেন, তিনি চুক্তির মেয়াদ ও অর্থের পরিমাণ নিজের ইচ্ছামতো ঠিক করতে পারতেন। এমনকি, তারা তাকে আজীবন খেলার সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল, কারণ তারা মনে করে মেসি ইতিহাসের সেরা ফুটবলার।
বর্তমানে আল-ইত্তিহাদের প্রধান তারকা হিসেবে খেলছেন রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক স্ট্রাইকার করিম বেনজেমা। তবে, ক্লাব কর্তৃপক্ষের কাছে মেসিই ছিল শীর্ষ পছন্দ। যদি তিনি এই প্রস্তাব গ্রহণ করতেন, তবে তিনি বিশ্বের সর্বোচ্চ বেতনভোগী খেলোয়াড় হিসেবে নতুন রেকর্ড গড়তেন এবং ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর মতো সৌদি প্রো লিগে যোগ দিতেন। তবে, মেসি প্রাধান্য দিয়েছেন অর্থের চেয়ে নিজের ও পরিবারের স্বস্তি ও পছন্দকে।
বর্তমানে ইন্টার মিডিয়ামির হয়ে মাঠ মাতাচ্ছেন এই বিশ্বকাপজয়ী তারকা। তার পারিশ্রমিক সৌদি প্রস্তাবের তুলনায় অনেক কম হলেও, ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে তিনি মানসিক শান্তি এবং পরিবার নিয়ে সময় কাটানোর মূল্যবা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, জাদুকরী পারফরম্যান্সের মাধ্যমে ইন্টার মায়ামি নিয়মিত শিরোপা জিতছে এবং তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পরিবার নিয়ে সুখে জীবন কাটাচ্ছেন। এই সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে, মেসির কাছে অঢেল অর্থের চেয়ে ব্যক্তিগত সুখ ও পারিবারিক মূল্য অনেক বেশি।






