যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিসে ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) অঙ্গন থেকে একটি ভিডিও সোশ্যাল মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দেখা যায় পুলিশ কর্মকর্তা একজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নারীকে জোরপূর্বক গাড়ি থেকে টেনে হিঁচড়ে নামাচ্ছে। এই নারীর চিৎকার সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক Aufmerksamkeit লাভ করেছে। ইতোমধ্যে তার পরিচয় শনাক্ত অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি একজন প্রযুক্তিবিদ, এলজিবিটি ও বর্ণবৈষম্যবিরোধী অধিকারকর্মী, এবং নিজেকে ‘ফ্রেন্ডলি নেবারহুড ডিনায়েবল অ্যাসেট’ হিসেবে পরিচয় দেন।
আলিয়া রহমান নামে এই নারী বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পর স্বাধীন বাংলাদেশের জন্মের কিছু সময়ের মধ্যেই পরিবারসহ যুক্তরাষ্ট্রে যান। তিনি একজন পেশায় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার এবং দীর্ঘদিন ধরে কোডিং ও প্রযুক্তি খাতে কাজ করে আসছেন। পাশাপাশি তিনি পুলিশ বিভাগে বডি ক্যামেরার নীতি ও ব্যবহার নিয়ে কাজ করছেন এবং ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’ আন্দোলনের একজন সক্রিয় স্বেচ্ছাসেবক।
গত ১৩ জানুয়ারি একটি ভিডিও ভাইরাল হয়, যেখানে দেখা যায়—ফেডারেল এজেন্টেরা আলিয়া রহমানের গাড়ির জানালা ভেঙে তাকে জোরপূর্বক বের করে নিচ্ছেন। অভিযোগ করা হয়, তিনি এক বিক্ষোভের সময় আইসিইর গাড়ির চলাচলে বাধা সৃষ্টি করেছিলেন। এই ঘটনা ঘটে ওই এলাকার কাছেই, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুলির ঘটনার এক সপ্তাহের কম সময়ের মধ্যে।
ভিডিওতে দেখা যায়, আলিয়া চিৎকার করে বলছেন, তিনি শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন এবং ডাক্তার দেখানোর জন্য চেষ্টা করছেন। এর পাশাপাশি মুখোশধারী কয়েকজন ফেডারেল এজেন্ট তাকে হাতে হাতকড়া পরিয়ে বিশৃঙ্খল পরিবেশে নিয়ে যায়।
লিংকডইন প্রোফাইল অনুযায়ী, ৪৩ বছর বয়সী আলিয়া রহমান মিনিয়াপোলিসে বাসরত একজন কমিউনিটি নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ। তিনি বিভিন্ন পদের কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে, যেমন ফুল স্ট্যাক ডেভেলপার এবং ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজার। তাছাড়া, তিনি বিভিন্ন প্রযুক্তি সংস্থায় দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর আসল ঠিকানা অনুযায়ী, তিনি পূর্বে আইওয়ারের সিডার ফলসে থাকতেন। নিজের প্রোফাইলে তিনি নিজেকে ‘ফ্রেন্ডলি নেবারহুড ডিনায়েবল অ্যাসেট’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং নিউ আমেরিকার ওপেন টেকনোলজি ইনস্টিটিউটের একজন ফেলো ছিলেন। ওই ইনস্টিটিউটের ওয়েবসাইটে বলা হয়, তাঁর কাজের মূল ভিত্তি হলো আইন প্রণয়ন, নির্বাচন, কমিউনিটি সংগঠন, ব্যাঙ ও ফৌজদারি বিচারসংক্রান্ত আন্দোলন, সামাজিক ন্যায়বিচার, সফটওয়্যার উন্নয়ন ও শিক্ষাক্ষেত্রে অবদান।
আলিয়া রহমান যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করেন, তবে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পরপরই তিনি পরিবারের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য চলে যান। টেক ফর সোশ্যাল জাস্টিসের এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, শৈশবে যে পরিবেশ দেখেছেন, তা তাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। তিনি বলেন, ‘আমি দেখতে পেয়েছি কিভাবে একটি দেশ গড়ে উঠেছে, কিভাবে পোশাকশ্রমিকেরা—যাদের বেশির ভাগই নারী—রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করেছে।’ এভাবেই তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও সংগ্রামের গল্প উঠে আসে।






