আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেছেন যে, তিনি ইরানে কোনো সামরিক অভিযান চালাতে চান না। পাকিস্তানে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজা আমিরি মোগাদ্দাম এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, ট্রাম্প প্রশাসন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে তারা যুদ্ধ চায় না। এর পাশাপাশি, ইরানকে অনুরোধ করা হয়েছে যেন যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থবিরোধী হামলা এড়ানো হয়। ট্রাম্প তেহরানকে আঞ্চলিক পরিস্থিতিতে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের জন্যও আহ্বান জানিয়েছেন।
রাষ্ট্রদূত মোগাদ্দাদাম আরও বলেন, ইরানে চলমান অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির কারণে জনগণের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার রয়েছে। তবে কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠী নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ও মসজিদে হামলা চালিয়ে পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলছে।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধ এড়াতে ব্যাপক কূটনৈতিক কার্যক্রম চালু হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদের সঙ্গে টেলিফোনে আলোচনা করেছেন। তাসনিম সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, এই আলোচনা চলাকালে আরাগচি ইরানের সীমান্ত রক্ষা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় দৃঢ় অবস্থান তুলে ধরেন। অন্যদিকে, সৌদি পক্ষ যুদ্ধের ভয়াবহ পরিণতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে কূটনীতি ও সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
তুরস্কও এই সংকট নিরসনে সংলাপের পক্ষে জোরালো দৃষ্টি দিয়েছে। দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান সাংবাদিকদের জানাতে বলেন, ‘সংকটের সমাধান অবশ্যই সংলাপের মাধ্যমে হওয়া উচিত।’ তিনি আরো বলেন, ওয়াশিংটন ও তেহরান চাইলে সরাসরি আলোচনায় বসে কিংবা মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের নমনীয় রীতি এবং আঞ্চলিক শক্তিশালী দেশগুলোর মধ্যস্থতার আহ্বান মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সামরিক সংঘাত এড়ানোর সম্ভাবনাকে জীবন্ত করে তুলছে।






