নওগাঁতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যক্রমে অসন্তোষ ও বিভক্তির খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় আন্দোলনের নওগাঁ জেলা আহ্বায়ক কমিটি থেকে একযোগে ১০ জন নেতা পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। এই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত তারা শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি ২০২৬) সন্ধ্যায় জেলা আহ্বায়কের কাছে লিখিতভাবে জমা দেন। অভিযোগ উঠেছে, সম্প্রতি গঠিত ২০৬ সদস্যের এই কমিটিতে সুবিধাবাদী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রভাব থাকায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব যথেষ্ট নয় বলে তারা মনে করছেন। পদত্যাগকারীদের মধ্যে কয়েকজন প্রধান আন্দোলনকারী এবং রাজপথে আহত ব্যক্তিও রয়েছেন, যা স্থানীয় ছাত্র রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
পদত্যাগপত্রে নেতারা উল্লেখ করেছেন, কেন্দ্রীয় অনুমোদনে গঠিত এই কমিটি শুরু থেকেই বিতর্ক ও অসন্তোষের সৃষ্টি করেছে। তারা অভিযোগ করেছেন, কমিটির সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া ব্যক্তিশ্রেণি কেন্দ্রিক ও অস্বচ্ছ, যা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মূল নৈতিক ভিত্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন। তারা এও বলেন, আন্দোলনের সময় যারা ঝুকে যুদ্ধ করেছেন ও জীবন বাজি রেখেছেন, তাঁদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি। আহত আন্দোলনকারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তারা জীবন দিয়ে আন্দোলন করেছেন, কিন্তু এখন সুবিধাবাদীরা এর কুফল ভোগ করছে। আহতরা অবহেলিত থাকলেও সম্প্রতি কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল থাকা অনেকে ছিলেন, যারা আন্দোলনে কখনোই চাপের মুখে ছিলেন না।
অন্য এক নেতা সিহাব হোসেন অভিযোগ করেছেন, এই কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা কিছু নেতারা রয়েছে যারা নির্দল বা নিরপেক্ষ নয়। তিনি বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীরা একটা রাজনৈতিক ভাবমূর্তি মুক্ত কমিটির প্রত্যাশা করেছিল, তবে বাস্তবে তা হয়নি। এ কারণে আন্দোলনে স্বচ্ছতা ও স্বাধীনতার অপূর্ণতা তৈরি হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে অন্য কিছু নেতা জানিয়েছেন, গঠিত এই কমিটিতে রাজনৈতিক নেতাদের উপস্থিতি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের আদর্শের পরিপন্থী, যার জন্য তারা এ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন।
অন্যদিকে, এই গণপদত্যাগের ঘটনাকে বিপরীতে একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র হিসেবেও দেখছেন নওগাঁ জেলা কমিটির আহ্বায়ক আরমান হোসেন। তিনি দাবি করেন, পদত্যাগপত্র পাওয়ার পর তিনি সংগঠক সিহাব ছাড়া অন্য কারো সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি। তার ধারণা, সাক্ষর জালিয়াতি করে কিছু মানুষ বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তিনি আরও বলেছেন, কমিটিতে কোন রাজনৈতিক দলের প্রভাব নেই এবং সদস্য সচিব রাফি রেজওয়ান এনসিপি থেকে পদত্যাগ করেই এখানে যোগদান করেছেন। সংগঠনের দুর্বলতার অপবাদ অস্বীকার করে তিনি বলেন, কিছু দাতা এড়িয়ে নানাভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে। উল্লেখ্য, গত ২৯ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় সভাপতি রিফাত রশিদের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ২০৬ সদস্যের এই কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল, যেখানে আরমান হোসেনকে আহ্বায়ক এবং রাফি রেজওয়ানকে সদস্য সচিব হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছিল।






