অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে এখনই কোনো বিশাল সংস্কার হয়নি বলে যারা প্রচার করছেন, তাদের অভিযোগ ঠিক নয়। বরং, বিগত সময়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। তিনি মন্তব্য করেন, কিছু মানুষের নেতিবাচক কথাবার্তা এখনো সংস্কার নিয়ে সমাজে আলোচনার মাধ্যমে নেতিবাচক আবরণ দিয়ে দিতে চায়, যা মূলত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশি ভিউ বা জনপ্রিয়তা পাওয়ার জন্য করা হয়। এই কথাগুলো তিনি রবিবার (১৮ জানুয়ারি ২০২৬) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) এর আয়োজিত ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং আইনের শাসন’ শীর্ষক নীতি সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন।
আইন উপদেষ্টার ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা যদি ১০ মানের হয়, তাহলে অন্তত চারটি প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়িত হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তবে, তিনি স্বীকার করেন যে, পুলিশ বাহিনীসহ অন্যান্য সংস্থার ব্যাপক সংস্কার, যেভাবে সরকারের মনোভাব বা পরিকল্পনা ছিল, কিছু পরিস্থিতির কারণে সম্পন্ন হয়নি। তারপরও, তিনি দাবি করেন সরকার বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সব আইনি পদক্ষেপ ও নীতিগত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
বিচারক নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে আসিফ নজরুল স্পষ্ট করে বলেন, এখন থেকে শুধুমাত্র ১০ বছর ধরে ‘জয় বাংলা’ বা ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ gibi স্লোগান দেওয়া বিচারক হবেন না। বিচারক হওয়ার জন্য যোগ্যতা, মেধা ও দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় বলে জানান। তিনি বলেন, উচ্চ আদালতের সংস্কারগুলোও দরকার, তবে সেই পরিবর্তনগুলো উচ্চ আদালত নিজ থেকেই আনতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে যা কিছু করা দরকার, তা সবই সম্পন্ন করা হয়েছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
ড. আসিফ নজরুল বর্তমান সংস্কার প্রক্রিয়ার ব্যাপকতা তুলে ধরে বলেন, সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের সঙ্গে যতটা পরামর্শ ও আলোচনা করা হয়েছে, সেটি ১৯৭২ সালের সংবিধান প্রণয়নে ততটা হয়েছিল কি না, সেই প্রশ্ন উঠতে পারে। তিনি মনে করেন, দেশের পূর্ণাঙ্গ আইনের শাসন বা রুল অব ল প্রতিষ্ঠা করতে আরও পাঁচ থেকে দশ বছর সময় লাগতে পারে। বর্তমান সরকার যদি এই সংস্কারের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারে ভবিষ্যতে, তাহলে জনগণ প্রকৃত সুফল ভোগ করতে পারবেন।






