বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষণা করেছেন যে, ভবিষ্যতে যদি তার দল সরকার গঠন করে, তবে চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত যোদ্ধাদের জন্য একটি নতুন বিভাগ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে খোলা হবে। তিনি রোববার (১৮ জানুয়ারি ২০২৬) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন, যেখানে তিনি চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের ভুক্তভোগী পরিবার ও আহতদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এই সময় তারেক রহমান ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একান্তে কথা বলেন এবং তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
তার বক্তব্যে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, অতীতে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদ ও আহতদের জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায়, জাতীয় শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের যোদ্ধাদের ত্যাগ স্বীকৃতি হিসেবে তাদের জন্য বিশেষ বিভাগ খোলার পরিকল্পনা তাঁর দলের রয়েছে। তিনি ব্যাখ্যা করেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধারা দেশের স্বাধীনতার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, আর ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতা সেই স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য লড়াই করে যাচ্ছে। তাই যদি ১৯৭১ হয় স্বাধীনতার বছর, তবে ২০২৪ হলো সেই স্বাধীনতা রক্ষা করার বছর।
অভ্যুত্থানের প্রকৃতি বিশ্লেষণ করে বিএনপি চেয়ারপার্সন বলেন, এই আন্দোলন কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর নয়, বরং এটি ছিল সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার গণআন্দোলন। তিনি স্বজন হারানোর বেদনার কথাও উল্লেখ করেন, বলেন এই ক্ষতি কোনো কিছু দিয়েও পূরণ করা সম্ভব নয়। তবে রাষ্ট্র তাদের পাশে দাঁড়াতে পারে দুইভাবে: এক, আহতদের চিকিৎসার পুরো খরচ রাষ্ট্র বহন করবে; দুই, তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী অর্থনৈতিক অধিকার ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে এসব প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।
বিগত সরকারের সমালোচনায় তিনি বলেন, গত দেড় দশক ধরে চলা ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে হাজার হাজার মানুষ গুম, খুন ও অপহরণের শিকার হয়েছেন। অসংখ্য পরিবার আজ অচেনা দিশাহারা। তিনি পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানান, শুধু জুলাই গণঅভ্যুত্থানেই ১৪০০ এর বেশি মানুষ শহীদ হয়েছেন এবং প্রায় ৩০ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কমপক্ষে ৫০০ জনের চোখের দৃষ্টিশক্তিও হারিয়েছেন। এই নির্মম হত্যাযজ্ঞকে তিনি ‘গণহত্যা’ হিসেবে তখনই ঘোষণা করেন।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি বলেন, আগামী নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, একটি গণতান্ত্রিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার জন্য যদি দেশের মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগে সফল হয়, তবে শোকের এই কালো অধ্যায়ও শেষ হবে। তিনি দৃঢ় আশায় থাকেন, জনগণ তাদের ভোটের মাধ্যমে গণতন্ত্রের জয় নিশ্চিত করবে এবং শহীদদের রক্তের ঋণ তারাও শোধ করবে।






