জমিদারি প্রথা ছিল কৃষক ও শ্রমিক মেহনতি মানুষকে দুর্বিষহ কষ্টের মুখে রাখার বর্ষিত রীতি। তাদের কষ্টের কথা শুনে আমি নিজ أيضًا খুব কষ্টে পড়তাম। এই বাস্তবতা দেখে আমি লোভ, লালসা এবং ভোগবিলাসের ঘর ত্যাগ করে কৃষক ও শ্রমিক মেহনতি মানুষের পাশে এসে দাঁড়াই। এই মতবাদই ছিল কমরেড অমল সেনের জীবনবাণী। তিনি এতটাই নিবেদিত ছিলেন সাধারণ মানুষের স্বার্থে যে, তার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে সংগঠিত হয়েছিল ওর্য়াকার্স পার্টি। গত ২৩ বছরে তাঁর প্রস্থানের পর আজ আমরা তাঁকে স্মরণ করছি।
শনিবার, অর্থাৎ ১৭ জানুয়ারি, দিনটি ছিল বাংলাদেশের ওর্য়াকার্স পার্টির প্রতিষ্ঠাতা এবং তেভাগা আন্দোলনের অন্যতম নেতা, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও সাবেক সভাপতি কমরেড অমল সেনের ২৩তম মৃত্যুবার্ষিকী। এই গুরুত্বপূর্ণ দিনটি পালনে সংগঠনটির পাশাপাশি বিভক্ত অমল সেন স্মৃতি রক্ষা কমিটি, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ এবং অন্যান্য বামধারার সংগঠণগুলি স্বতঃস্ফূর্তভাবে নানা অনুষ্ঠান আয়োজন করে।
এই দুই দিনের কর্মসূচির মধ্যে ছিল নেতার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, শিশুদের জন্য চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা, সন্ধ্যায় দ্বীপশিখা জ্বলানো ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন।
গত শুক্রবার বিকেলে বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক কমরেড ইকবাল কবির জাহিদ নেতার সমাধিতে মালা پیش করেন। পরে, বাকড়ি বহুমুখি মাধ্যমিক বিদ্যালয় চত্বরে অনুষ্ঠিত হয় এক স্মরণসভা, যেখানে সভাপতিত্ব করেন কংকণ পাঠক। মূল বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কমরেড ইকবাল কবির জাহিদ, যশোর জেলা কমিটির সম্পাদক কমরেড তসলিমুর রহমান, শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি কমরেড মোজাম্মেল হক, ক্ষেতমজুর সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি গাজী নওশের আলী, সহকারী অধ্যাপক রমেশ চন্দ্র অধিকারী এবং বাঘারপাড়া উপজেলার মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান বিথিকা বিশ্বাসসহ অনেকে।
প্রতি বছরই এই দিনটি উপলক্ষে বাংলাদেশের ওর্য়াকার্স পার্টি, নড়াইল জেলা শাখা এবং অন্যান্য সংগঠনগুলো নানা কর্মসূচি পালন করে থাকে। এর মধ্যে ছিল, নেতার সমাধিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন, এক মিনিট নীরবতা পালন এবং আলোচনা সভা। বিশেষ করে, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক এমপি হাজেরা খাতুনের মৃত্যুতে এই দিনটির আনুষ্ঠানিকতা কিছুটা সংক্ষিপ্ত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন, অমল সেন স্মৃতি রক্ষা কমিটির সভাপতি কৃঞ্চপদ বিশ্বাস। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কমরেড মাহামুদুল হাসান মানিক। বক্তব্য দেন কমরেড নজরুল ইসলাম, মলয় নন্দী এবং অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। এই দিনটির মাধ্যমে আমরা অমল সেনের জীবন ও আদর্শকে স্মরণ করে, তার আদর্শের আলোকে আগামী প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা করছি।






