বরিশালে বিবাহবিচ্ছেদের হার দারুণ চিন্তার মতো আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। গত দুই বছরে নিবন্ধিত মোট বিবাহের তুলনায় তালাকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তর সূত্র জানিয়েছে, নগরীতে প্রতিদিন গড়ে নয়টি করে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে, এবং এর বেশিরভাগই নারীদের পক্ষ থেকে হয়। সমাজ বিশ্লেষকরা বলছেন, সংসারে আস্থা ও সহনশীলতার অভাব, স্বামীর বেকারত্ব, মাদকাসক্তি, অনলাইন জুয়ার প্রবণতা এবং পরকীয়ার মতো সমস্যা বিবাহ ভাঙ্গনের মূল কারণ। তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে মনোমালিন্য সৃষ্টি হয় যেখানে, আলগা হয়ে পড়ে সম্পর্কগুলো। এসব সমস্যার কারণে বহু পরিবারে বিচ্ছেদের পথে হাঁটছে। বরিশালের নথুল্লাবাদ এলাকার এক ব্যবসায়ী উল্লেখ করেছেন, দাম্পত্য জীবনে আস্থার অভাবে তিনি একসময় আত্মহত্যার কথাও ভাবছিলেন। পারিবারিক কলহ ও বিশ্বাসের অভাব তাকে মানসিকভাবে ভেঙে ফেলেছিল। যদিও পরে তিনি ফিরে আসেন, এর মাধ্যমে সমাজে চলমান সংকটের চিত্র ফুটে উঠে। দেশপ্রেম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা হওয়া সম্পর্কগুলোও দ্রুত ভেঙে যাচ্ছে। যেমন, এক তরুণী জানান, পরিবারের অমতে তিনি প্রেমে পড়ে বিবাহ করেছেন। তবে সময়ের সাথে সাথে যৌতুকের দাবী ও পারিবারিক অশান্তির কারণে ভালবাসার এই সম্পর্ক শেষ হয়ে যায়। আরেকদিকে, নারীদের অভিযোগ, স্বামীর বেকারত্ব, মাদক ও অনলাইন জুয়ার কারণে বাড়ছে অশান্তি। অনেক নারী পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, ফলে তারা শেষমেষ বাবার বাড়িতে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। বরিশাল জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয় তথ্য বলছে, গত দুই বছরে মোট ১৮ হাজার ৬৪৪টি বিয়ের বিপরীতে ৬ হাজার ৩৫২টি বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে। ২০২৩ সালে ৯ হাজার ৬৬৬টি বিয়ের মধ্যে ৩ হাজার ৫টি পরিবার শেষ হয়ে গেছে, এবং ২০২৪ সালে ৮ হাজার ৯৭৮টি বিয়ের মধ্যে ৩ হাজার ৩৪৭টি বিচ্ছেদ ঘটেছে। আইনজীবীরা বলছেন, আদালতগুলোতে বিবাহবিচ্ছেদ ও নারী নির্যাতনের মামলার সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে, যেখানে অধিকাংশ অভিযোগের পেছনে রয়েছে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক, মাদকাসক্তি ও পারিবারিক সহিংসতা। সমাজের বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা উল্লেখ করেছেন, ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ থেকে সরে যাওয়া এবং পারিবারিক বন্ধন দুর্বল হয়ে পড়ার ফলেই এই সংকট আরও গভীর হয়ে উঠছে। তারা সতর্ক করে বলছেন, পরিবার ও সমাজের সচেতনতা বাড়ানো ছাড়া এই পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে এগিয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। বরিশালের রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের কর্মকর্তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, ইতিমধ্যেই নারীদের আবেদন সংখ্যাই বেশি, এবং ২০২৫ সালে এই প্রবণতা আরও বাড়তে পারে।






