ইরানের নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভি সম্প্রতি এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছেন, দেশের চলমান গণবিক্ষোভের মুখে বর্তমান ইসলামি শাসনব্যবস্থার পতন এখন সময়ের গুরুত্বপূর্ণ অপেক্ষার বিষয়। ওয়াশিংটনে সপরিবারে বসবাসরত ৬৫ বছর বয়সী এই সাবেক রাজপুত্র শক্ত ভাষায় বলেন, প্রশ্নটি এখন আর ‘যদি’ নয়, বরং ‘কখন’ ইরান এই শাসন ব্যবস্থা থেকে মুক্তি পাবে, তা নির্ধারিত হবে। তিনি নিজেকে এক ধর্মনিরপেক্ষ গণতন্ত্রের নেতৃত্বদানকারী হিসেবে উপস্থাপন করে আন্তর্জাতিক সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যেন তারা ইরানের পরিস্থিতি পরিবর্তনে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়।
গত ডিসেম্বরের শেষে অর্থনৈতিক সংকটের মাধ্যমে শুরু হওয়া বিক্ষোভের প্রতিবাদে ইরানে নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর অভিযান চালিয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা ‘ইরান হিউম্যান রাইটস’ এর মতে, এই সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা ৩৩৫৯২ ছাড়িয়েছে, যদিও অন্যান্য সূত্রের দাবি এটি ২০ হাজারের কাছাকাছি হতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা হলে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দেন, কিন্তু গত দুই সপ্তাহে তিনি কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেননি। বরং সম্প্রতি তিনি সামাজিক মাধ্যমে বলেছেন, ইরানে মৃত্যুদণ্ডের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে, যা জন্য তিনি তেহরানকে ধন্যবাদও জেনেছেন। এ অবস্থায় রেজা পাহলভি তাকে সতর্ক করে আরও বলেছেন, যেন তিনি ভুল বোঝেন না এবং ওবামার মতো ভুল সিদ্ধান্ত না নেন, পাশাপাশি ইরানের জনগণের পক্ষ থেকে দাঁড়ানো অব্যাহত রাখেন।
প্রেসক্লাবে নিজের বক্তব্যে পাহলভি দাবি করেন, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর ওপর ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ বা নির্দিষ্ট লক্ষ্যভেদী হামলার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা জরুরি। তিনি আরও আবেদন করেন, বিশ্বের সব দেশ যেন ইরানের কূটনীতিকদের বহিষ্কার করে এবং বন্ধ থাকা ইন্টারনেট পরিষেবাগুলোর দ্রুত চালু করার জন্য সহায়তা করে। তিনি জানান, ক্ষমতায় এসে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়বেন এবং ইসরাইলের সঙ্গে দ্রুত সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য এক ঐতিহাসিক চুক্তি, ‘সাইরাস অ্যাকর্ড’, সম্পন্ন করবেন।
অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্বের দাবি নিয়ে অনেকের সমালোচনার মধ্যে পার্থক্য নিয়ে তিনি দাবি করেন, তিনি কেবল এক অস্থায়ী দায়িত্ব পালন করতে চান, যার পর গণভোটের মাধ্যমে চূড়ান্ত সরকার ব্যবস্থা নির্ধারিত হবে। সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি তাঁর বাবার আমলের দমন-পীড়ন সম্পর্কে কিছু বলতে অস্বীকার করে বলেন, ইতিহাসের লেখনী ইতিহাসবিদদের কাজ। শেষভাগে তিনি দৃঢ়প্রত্যয় প্রকাশ করে বলেন, তিনি খুব শীঘ্রই ফিরে যাচ্ছেন এবং দেশকে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তর কোরিয়া থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার মতো উন্নত রাষ্ট্রে রূপান্তর করবেন।






