নৌ-পরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর পরিদর্শনকালে দ্বিপাক্ষিক ভিসা জটিলতা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে গুরুত্ব রেখে আলোচনা করেছেন। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেলে সাংবাদিকদের সাথে আলোচনায় তিনি জানান যে, বর্তমানে ভারতের জটিলতা ও নানা কারণে ভিসা প্রদান ধীরগতির হয়েছে, তাই বাংলাদেশ থেকেও কম ভিসা দেওয়া হচ্ছে। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন যে, দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। উপদেষ্টা আরও বলেন, “ভারত নানা কারণে ভিসা দিচ্ছে না, এই পরিস্থিতি আমাদের এখান থেকেও ভিসা দেওয়ার পরিমাণ কম করছে। তবে এগুলো সময়ের সাথে সাথে ঠিক হয়ে যাবে। নতুন সরকার আসলে ডিউরেশন বা ভিসার সময়সীমা আরও উন্নত হবে।”
তিনি দেশের বিভিন্ন সীমান্তে ইমিগ্রেশন এবং যাত্রী চলাচলের হ্রাসের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বেনাপোলসহ প্রধান বন্দরগুলোতে যাত্রীসংখ্যা আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে।
বন্দরের আধুনিকায়নের পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ উদ্যোগের বিষয়ে তিনি জানান, বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের বেসরকারি অপারেটরের মেয়াদ শেষ হলে সরকার নতুন কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করবে। এর পাশাপাশি, আঞ্চলিক ও উপ-মহাদেশীয় সম্পর্কের জটিলতা এড়ানোর জন্য তিনি বলেন, ভৌগোলিক কারণে সরাসরি চীনে সড়কপথ তৈরি বর্তমানে বাস্তবসম্মত নয়। এই সফর মূলত নৌবিভাগের আওতাধীন ২০টি স্থলবন্দর পরিদর্শন ও আধুনিকায়নের অংশ। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বর্তমান সরকার ভবিষ্যতের পরিকল্পনা অনুযায়ী পোর্টগুলোর উন্নয়ন করছে, পরবর্তী সরকার তার ভিত্তিতে কাজ চালিয়ে যাবে।
রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও দেশের চলমান সংস্কার প্রসঙ্গে সাখাওয়াত হোসেন অত্যন্ত দৃঢ় ও দূরদর্শী বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, অতীতের দুঃশাসন থেকে মুক্তির জন্য বর্তমান সংস্কার প্রক্রিয়াকে সফল করতে হবে। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বাংলাদেশে যেন অতীতের মতো অগণতান্ত্রিক কার্যকলাপ না ঘটে, তা কঠোরভাবে অস্বীকার করতে হবে। জনসমর্থন ও ভোটের মাধ্যমে এই পরিবর্তন আনতে হবে।” তিনি জীবনের বিনিময়ে অর্জিত এই সুযোগগুলোকে হারাতে না করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আঞ্চলিক ও জাতীয় অগ্রগতি ধরে রাখতে হলে ‘হ্যাঁ’ ভোটে সিল মারতে হবে। যদি তা না হয়, তাহলে আমরা সেই সংগ্রামের ফলাফল ভোগ করব, অন্যথায় আবারো আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়া সম্ভব। এই পরিবর্তন অটোমেটিক্যালি আসছে, তাই গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।”
উল্লেখ্য, এই সফরে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।






