বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর চেয়ারম্যান তারেক রহমান দীর্ঘ দুই দশকের বিরতিপূর্বক আজ বুধবার (২১ জানুয়ারি ২০২৬) সিলেটের উদ্দেশ্যে রওনা দিচ্ছেন। ২০০৫ সালে তিনি দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে শেষবার সিলেটে এসেছিলেন, কিন্তু এবার তিনি দলের চেয়ারম্যান হিসেবে প্রথমবারের মতো সিলেটে আসছেন। এই প্রথম তার নেতৃত্বে সিলেটে অনুষ্ঠিত হবে দলের প্রধান জনসভা। তার এই সফরকে কেন্দ্র করে সিলেটের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে দলের নেতাকর্মীরা ব্যাপক উচ্ছ্বাস ও উদ্দীপনায় পূর্ণ।
তারেক রহমানের এই সফর মূলত একটি নির্বাচনী প্রচারাশুরির অংশ। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) তিনি সিলেটের সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠ থেকে ব্যাপক আকারে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবেন। এর আগে, ১৯৯১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালুর পর থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করতেন। সেই দীর্ঘ রাজনৈতিক ঐতিহ্যকে অনুসারী করে, এবারও তারেক রহমান সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, পুণ্যভূমি সিলেট থেকে তার দলের নির্বাচনী প্রচারাভিযান শুরু করবেন।
ফলে, আজ তিনি আকাশপথে সিলেটে পৌঁছাবেন। এরপর আগামীকাল সকালে তিনি হজরত শাহজালাল ও হজরত শাহপরান (রহ.) এর মাজার জিয়ারত করবেন। এরপর সকাল ১১টায়, আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে অনুষ্ঠিত বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন। জনসভা শেষে তিনি সড়কপথে ঢাকায় ফিরে যাবেন এবং এর মধ্য দিয়ে আরও কয়েকটি পথসভা ও জনসভায় বক্তব্য রাখবেন।
তারেক রহমানের এই সফর ঘিরে সিলেট আজ উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে। নানা শহর ও গ্রামে চলছে মাইকিং, মিছিল ও প্রস্তুতি সভা। জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতারা জানিয়েছেন, দলের প্রধানের এই সফর সফলভাবে সম্পন্ন করতে সিলেটবাসী অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন, এবং সব প্রস্তুতিও সম্পন্ন করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় নারী দলের সহ-সভানেত্রী সামিয়া চৌধুরী আরও জানিয়েছেন, জনসভায় মহিলাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, এই সফর শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে সিলেটের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো কঠোর প্রস্তুতি নিয়েছে। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী নিশ্চিত করেছেন যে, ২১ এবং ২২ জানুয়ারির এই সফর সুষ্ঠু ও নিরাপদে সম্পন্ন করতে পুলিশ সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। পুরো নগরীতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং জনসভাস্থলসহ আশপাশের এলাকায় নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।






