জনপ্রিয় নেতা শেখ হাসিনা, যিনি জুলাইয়ের অভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারিয়ে বর্তমানে ভারতে নির্বাসিত জীবনযাপন করছেন, সেখানে থেকেও বিভিন্ন সময় বিবৃতি দিয়ে আসছেন। এই কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি ভারতীয় সরকারকে বার্তা পাঠানোর চেষ্টা করছেন। তবে বাংলাদেশের সরকারের পক্ষ থেকে মনে করা হয়, ভারতে বসে শেখ হাসিনার বিবৃতি বাংলাদেশ প্রত্যাশা করছে না।
অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টার ভাষ্য, তারা ভারতের ওপর থেকে আশা করে না যে, শেখ হাসিনা সেখানে বসে কোনো ধরণের অস্পষ্ট বা আপত্তিকর মন্তব্য করবেন। সম্প্রতি বিবিসি ইন্ডিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বাংলাদেশের সাথে ভারতের সম্পর্ক, দুই দেশের মধ্যে সৃষ্টি হওয়া অস্বস্তি ও টানাপোড়েনের বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।
তিনি বলেন, কিছু ভুল বোঝাবুঝি বা অস্বস্তি থাকলেও একই ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থের কারণে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের উন্নতি বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জুলাইয়ে হাসিনা সরকার পতনের পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের মধ্যে কিছুটা মন্থরতা দেখা দেয়। সীমান্ত উত্তেজনা, পাল্টা কূটনৈতিক তলবের মতো ঘটনাও ঘটেছে। এমন পরিস্থিতিতেই নয়াদিল্লি বাংলাদেশের হাইকমিশন ও সহকারী প্রধানদের পরিবারের সদস্যদের ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
অন্তর্বর্তী সরকারের এই পররাষ্ট্র উপদেষ্টার ১০ মিনিটের সাক্ষাৎকারে দিল্লিতে শেখ হাসিনার অবস্থান, দেশে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় নির্বাচন, ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
তৌহিদ হোসেন স্পষ্ট করে বলেন, ভারত বসে শেখ হাসিনার কোনো ধরনের বিবৃতি প্রত্যাশা করছে না। এমন কর্মকাণ্ড বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের জন্য মোটেও শুভ নয়।
এছাড়াও তিনি সংখ্যালঘুদের পর নিপীড়নের ঘটনাগুলিতে বাংলাদেশের সরকারের দ্রুত পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন, জানিয়ে that তা দ্রুতই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ভারতীয় সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে বাংলাদেশ কখনোই কথা বলে না, আর ভারতও একই নীতিমালা অনুসরণ করলে উভয় জন্যই মঙ্গল।
পরিশেষে, তিনি বলেন, হাসিনা সরকারের আমলে ইচ্ছাকৃতভাবে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ করার বিষয়টি ছিল। তবে, দুই দেশের মধ্যে শত্রুতা থাকলেও বাংলাদেশ সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চায়।






