ফরিদপুরের ভাঙা উপজেলায় বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী শহিদুল ইসলাম বাবুলের উদ্যোগে প্রথমবারের মতো জেনারেশন জেড (জেন-জি) কার্নিভাল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই স্পেশাল ইভেন্টটি শুক্রবার (চুয়াবিশির জানুয়ারি) সকাল ১০টায় উপজেলার পশ্চিম হাসামদিয়া ওয়াটার ওয়ার্ল্ড পার্কে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতেই সকালে সম্মিলিত জাতীয় সংগীত পরিবেশিত হয়। এরপর উপস্থিত অতিথিদের স্বাগত বক্তব্য দেন ফুড এন্ড হেলথের পরিচালক সাংবাদিক ওবায়দুল রহমান, যারা তরুণদের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করতে আমন্ত্রণ জানায়। সেই সঙ্গে তরুণরা নানা বিষয়ে অতিথিদের কাছে প্রশ্ন করেন এবং আলোচনা করে। পরে জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং সদরপুরের তরুণ উদ্ভাবক মার্ক মোল্লার তথ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়। এই অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, এতদিন আমরা ভাবতাম আমাদের এলাকা উন্নত হয়েছে, কিন্তু প্রকৃত পরিস্থিতি দেখলে বুঝতে হবে এখনো অনেক কাঠিন্য রয়ে গেছে। শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, তরুণদের নিয়ে এমন একটি উদ্যোগ আমাদের জন্য আজ একটি বড় প্রাপ্তি। এ ধরনের কোনও পার্ক বা অডিটোরিয়াম আমাদের এলাকায় নেই, যেখানে এমন কার্যক্রম পরিচালনা করা যায়। গত ১৭ বছর ধরে আমাদের এলাকায় এসব উন্নয়নের জন্য কোনো সন্দেহ ছিল না। তিনি বলেন, তরুণরা পৃথিবী বদলে দিতে পারে, তবে এ ক্ষেত্রে প্রবীণদের অভিজ্ঞতার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তরুণদের শক্তি ও অভিজ্ঞ প্রবীণদের জ্ঞান একসাথে দেশের উন্নয়নে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। নির্বাচনে কেন আমি ভোট পাব—প্রশ্নের উত্তরে শহিদুল ইসলাম বলেন, আমি গত ১৭ বছর ধরে লড়াই করছি এক সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার জন্য। আমি গুম, গুঁজান ও জনগণতন্ত্রের বিপক্ষে আছি। আপনারা ভবিষ্যতের বাংলাদেশ দেখতে চান, আমরা তরুণরা সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে পাশে থাকব। শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষ জনগোষ্ঠী গড়ে তোলার জন্য কাজ করব। বিশিষ্ট চিন্তক ও গবেষক ফাহাম আব্দুস সালাম বলেন, আমি এখানে আসার কারণ ৫ আগস্ট। এই দিনটি না হলে আজ আমি এখানে থাকতে পারতাম না। তবে দুঃখের বিষয় হচ্ছে, জুলাইয়ে ছাত্রদলের একজন নেতার মারা যাওয়া সত্ত্বেও আমরা তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করি না। তিনি জানান, তিনি নিয়মিত বাবুল ভাইয়ের টকশো দেখেন এবং তার অফিসিয়াল মতামত প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, কীভাবে নির্বাচিত হবে—অর্থাৎ প্রার্থীর ট্র্যাক রেকর্ড ও রাজনৈতিক দল—এগুলো বিবেচনা করে ভোট দেওয়া উচিত। তিনি বলেন, বাবুল ভাইয়ের মত একজন যোগ্য প্রার্থী ক্ষমতায় গেলে জনগণের জন্য অনেক কল্যাণ হবে। রাজনীতি বিশ্লেষক ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, নতুন জেনারেশন পুরনো ক্ষেত্রের সঙ্গে জলঘোলা করেনা। বরং তারা চেষ্টা করে নতুন চেতনা বিকাশে। তাঁর মতে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বড় এক বিপ্লব হয়েছে, যেখানে তরুণেরা সাহসের পরিচয় দিয়েছেন। তিনি জানান, জামায়াত সমাজে সত্যিকারভাবে প্রভাব ফেলতে পারছে না। এখনকার ভোটাররা বাবুল ভাই বা বিএনপিকে ভোট দেওয়ার আগে তাদের ট্র্যাক রেকর্ড দেখে নির্বাচন করবেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিপি আবিদুল ইসলাম খান বলেন, আমাদের লক্ষ্য ক্ষমতার জন্য নয়, দায়িত্বশীল নেতৃত্বের জন্য রাজনীতি। জনগণই অধিকারী ক্ষমতার। দেশের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও নৈতিকতা ফিরিয়ে আনতে আমাদের অবদান রয়েছে। তারেক রহমান এভাবেই এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। তিনি সকলকেে শহিদুল ইসলাম বাবুলের পক্ষ থেকে ধানের শীষে ভোট চান। আবার, ডাকসুর সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ তানভীর বারী হামিম বলেন, তরুণরা প্রযুক্তিগতভাবে এগিয়ে রয়েছে। শহিদুল ইসলাম বাবুল এই ধناد্বজন তরুণদের উৎসাহিত করে যাচ্ছেন। তিনি জান্নাতের টিকেটের বিষয়ে বললেন, আল্লাহই জান্নাত ও জাহান্নামের সিদ্ধান্ত নেন। যারা অন্যায়ের সাথে যুক্ত, তারা ভণ্ড। অনুষ্ঠানে মূল পরিচালনা করেন ঢাকা মহানগর উত্তর কৃষকদলের সদস্য সচিব শফিকুর রহমান মিঠু ও ফরিদপুরের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতা সজল। অন্য বক্তাদের মধ্যে ছিলেন ডাকসুর সাবেক এজিএস প্রার্থী তানভীর আল হাদী মায়েদ। উপস্থিত ছিলেন সহস্রাধিক তরুণ-তরুণী, যারা ভবিষ্যতের দেশের স্বপ্ন দেখছেন।






