বিপিএলের ফাইনালে আবারও হতাশার স্বাদ পেয়েছে চট্টগ্রাম রয়্যালস। এর আগে দুই বার ‘কিংস’ নামে ফাইনালে গিয়ে ব্যর্থতার মুখ দেখার পর এবার তারা রানার্সআপ হিসেবে সন্তুষ্ট থাকতে হয়। মিরপুরের শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে আজ রাজশাহী ওয়ারিয়র্স বলিষ্ঠ পারফরম্যান্স দেখিয়ে বৃহৎ ৬৩ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় লাভ করে। এই জয়ে দলটির নেতৃত্বে থাকা অধিনায়ক শেখ মেহেদী ও তার দলের প্লেয়াররা উল্লাসে মাতোয়ারা হন। সাহসী ও দারুণ খেলোয়াড়ি পারফরম্যান্সের জন্য এঁরা দীর্ঘ ৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে শিরোপা ফিরিয়ে আনেন। আব্দুল গাফফার সাকলাইনের নির্দিষ্ট বলে মুকিদুল ইসলামের দারুণ ক্যাচ দিয়ে দলের উল্লাসকে তীব্র করে তুলেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও তার দল। ২০১৯ সালে আন্দ্রে রাসেলের নেতৃত্বে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয় রাজশাহী, আর এই দ্বিতীয় শিরোপা জয় তার জন্য নতুন এক উল্লেখযোগ্য অর্জন।
রাজশাহীর এই জয় মূলত ব্যাট হাতে ঝোড়ো পারফরম্যান্সের জন্য পরিচিত তানজিদ হাসান তামিমের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে। বিপিএলের ইতিহাসে ক্রিস গেইল ও তামিম ইকবালের পরে তৃতীয় ব্যাটার হিসেবে ফাইনালে সেঞ্চুরি করার গৌরব অর্জন করেন তিনি। মাত্র ৬২ বলের এই বিধ্বংসী ইনিংসে তামিম ৭টি ছক্কা ও ৬টি চারে ১০০ রান করেন, যা তাকে ক্রিকেটপ্রেমীদের মাঝে অনন্য এক মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করে। তার এই ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ভর করে রাজশাহী দল ১৭৪ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করায়। দলের পক্ষ থেকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩০ রান করেন শাহিবজাদা ফারহান। অন্যদিকে, চট্টগ্রামের পক্ষে শরীফুল ইসলাম ২ উইকেট নিয়ে বিপিএলের সর্বোচ্চ ২৬ উইকেট শিকার করে একটি রেকর্ড গড়লেও দলের হারের বেদনায় তাঁর এই ব্যক্তিগত সাফল্য ভালোভাবে দেখা যায়নি।
দুর্বল শুরু করে চট্টগ্রাম এই ম্যাচে খুবই চড়া বিপর্যয়ে পড়ে। লঙ্কান পেসার বিনুরা ফার্নান্দোর আক্রমণে মাত্র ৩৯ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়ে তারা দ্রুত পিছু হটে। নিয়মিত উইকেট পতনের ফলে শেষ পর্যন্ত ১১১ রানে গুটিয়ে যায় চট্টগ্রামের ইনিংস। দলের পক্ষে মির্জা বেগ ৩৯ ও আসিফ আলী ২১ রান করলেও তা জয় লাভের জন্য যথেষ্ট ছিল না। বিনুরা ফার্নান্দো ৪টি উইকেট নিয়ে একাই চোটে দেয় পুরো ব্যাটিং লাইনকে, আর হাসান মুরাদ দখল করেন ৩টি উইকেট। এই জয় ও উৎসবের মধ্য দিয়ে স্টেডিয়াম উঠেছিল তাণ্ডবের উত্সব, যেখানে দর্শকদের উল্লাস আর আতশবাজির ঝলকিতে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ট্রফি ঘরে তোলে।






