নির্মাতা রায়হান রাফী বিভিন্ন সত্য ঘটনা অবলম্বনে সিনেমা ও ওটিটি ওয়েব ফিল্ম তৈরি করে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলা চলচ্চিত্রে বিশেষ পরিচিতি অর্জন করেছেন। তিনি বরগুনার রিফাত-মিন্নি হত্যাকাণ্ড, গাজীপুরের লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড, ঢাকার কদমতলীর ট্রিপল মার্ডার এবং সম্প্রতি সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপটে নির্মিত সিনেমা ও ওয়েব ফিল্মের জন্য ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছেন। তার ওটিটি সিরিজ ‘অমীমাংসিত’ এই বছরের শুরুর দিকে মুক্তি পেয়েছে, যা দীর্ঘ সময়ের সেন্সর জটিলতা কাটিয়ে নতুন সরকারের সময় দর্শকদের জন্য উপস্থিত হয়। এই মেধাবী নির্মাতা এবার ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনাকে রূপালি পর্দায় তুলে ধরবে বলে পরিকল্পনা করেছেন। ওই ঘটনায় তৎকালীন বিডিআর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদসহ ৭৪ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। রায়হান রাফী বলেন, ‘আমার খুব ইচ্ছে রয়েছে বিডিআর বিদ্রোহ নিয়ে সিনেমা বানানোর। এতজন সেনা নিহত, লাশের সারি, গণকবর—এসবের মধ্যে কি সত্যিই ঘটে ছিল—তা আমি খুব জানতে চাই। আরও তথ্য জানা গেলে ওই ঘটনার ওপর সিনেমা বানানোর ইচ্ছে রয়েছে।’ বদলে যাওয়া বাস্তব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কাজ করতে গিয়ে তিনি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন প্রতিকূলতা ও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছিলেন। সেন্সর বোর্ডের বাধা, সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং তথ্যমেলানোর জন্য নানা প্রতিবন্ধকতাকে অতিক্রম করতে তিনি বলেন, ‘সত্য প্রকাশে যদি সাহস থাকে, তবে এসব বাধা এড়ানো সম্ভব। আমার লক্ষ্য, সমাজে অপরাধ ও অন্যায় যেন আবার না ফিরে আসে, সে জন্য সচেতনতা তৈরি করাই।’ বর্তমানে রায়হান রাফী প্রথমবারের মতো প্রযোজকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে ‘প্রেশার কুকার’ নামে একটি সিনেমা নির্মাণের কাজে ব্যস্ত। এই সিনেমাটি চারটি ভিন্ন গল্প নিয়ে তৈরি, এবং এর মুক্তি নির্ধারিত হয়েছে আসন্ন রোজার ঈদে। এর পাশাপাশি তার পরিচালনায় ভৌতিক ঘরানার সিনেমা ‘আন্ধার’ এর শুটিং শেষ হয়েছে এবং এ বছরই মুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে। মূলত সমাজের অমীমাংসিত রহস্য ও সত্য ঘটনাকে সাহসের সাথে পর্দায় তুলে ধরা তার নির্মাণশৈলীর প্রধান বৈশিষ্ট্য, যা তাকে অনন্যভাবে পরিচিত করে তুলেছে।






