ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নিয়ে জামায়াত নেতার কুরুচিপূর্ণ ও অবমাননাকর মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জননেতা ও ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির। তিনি বলেন, এই ধরনের অশালীন বক্তব্য রাজনীতির চরম দেউলিয়াপনা এবং দলটির নারীবিদ্বেষকে প্রকাশ করে। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি এক দীর্ঘ বিবৃতিতে এই কথা বলেন।
নাছির উদ্দিন উল্লেখ করেন, জামায়াত নেতা মো. শামীম আহসান যে মন্তব্য করেছেন, তাকে ‘মাদকের আড্ডাখানা ও বেশ্যাখানা’ বলে নিজ দায়িত্বজ্ঞানহীন ও অপমানজনকভাবে আখ্যা দিয়েছেন। এই বক্তব্য কেবল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বা ডাকসুর অপমান নয়; বরং এটি দেশের গৌরবোজ্জ্বল ছাত্ররাজনীতি, মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানসহ দেশের ইতিহাসের প্রতি অপমান। তিনি বললেন, এই আদর্শ প্রতিষ্ঠানে অশিষ্ট ভাষা ব্যবহার করাটা জামায়াতের দেউলিয়া রাজনীতির মুখোশ উন্মোচন করে।
তিনি অভিযোগ করেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজারো নারী শিক্ষার্থীকে বিব্রত করে এমন কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য সমাজে নারীদের প্রতি বিদ্বেষের প্রকাশ। একাত্তরের ইতিহাসে নারীর প্রতি সহিংসতা ও নির্যাতনের দৃষ্টান্ত উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি জামায়াত আবার ক্ষমতায় আসে, তবে তারা নারীদের গৃহবন্দি করে পুরনো মধ্যযুগীয় কায়দায় দেশ চালাবে এবং কর্মক্ষেত্রে নারীরঅগ্রগতি থামিয়ে দেবে।
অন্যদিকে, বর্তমান ডাকসু নেতৃত্বের নীরবতাকে নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন নাছির উদ্দিন। তিনি বলেন, তুচ্ছ বিষয় নিয়ে দীর্ঘ বিবৃতি দেওয়া হলেও, জামায়াত নেতার এমন ঘৃণ্য বক্তব্যের পর তারা নীরব থাকায় প্রমাণ হয়, ডাকসু এখন দলদাসে পরিণত হয়েছে। এটি একটি লজ্জাজনক অধ্যায় বলে অভিহিত করেন তিনি।
বিবৃতিতে, তিনি ডাকসুর সদস্য সর্বমিত্র চাকমার কর্মকাণ্ডেরও তীব্র সমালোচনা করেন। অভিযোগ করেন, তাকে বয়োজ্যেষ্ঠদের লাঞ্ছিত ও শিশুদের কান ধরানোর মতো অমানবিক আচরণের জন্য। তিনি মনে করেন, সর্বমিত্র ছাত্রশিবির মনোনীত প্যানেল থেকে নির্বাচিত, আর তার এসব স্বেচ্ছাচারী কর্মকাণ্ডের পেছনে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর কিছু স্বার্থ জড়িত। পাশাপাশি, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এমন ‘জুলুমবাজের’ ঠাঁই থাকা উচিত নয় বলে প্রত্যক্ষ নির্দেশ দেন, এবং তদন্ত কমিটি গঠন করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।






