গুয়াহাটিতে অনুষ্ঠিত তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে দলটি দেখিয়েছে দুর্দান্ত ক্রিকেটের মর্যাদা। ভারতের বোলারদের সুস্থ নিয়ন্ত্রণের পর শুরু থেকেই আক্রমণ শুরু করেছেন অভিষেক শর্মা ও সূর্যকুমার যাদব। তিনজনের অসাধারণ পারফরম্যান্সে মাত্র ১০ ওভারে ১৫৩ রানের লক্ষ্য ছুঁয়েছে ভারত, যা প্রায় অপ্রতিরোধ্য। এই দুর্দান্ত জয়ে ৮ উইকেটের বিশাল জয় পাওয়ার মাধ্যমে ভারতের তৃতীয় ম্যাচে সিরিজ ৩-০ ব্যবধানে জিতে গেছে। এখন শেষ দুটি ম্যাচ শুধুই আনুষ্ঠানিকতা থাকবে।
ম্যাচের শুরুতে লক্ষ্য পেরুতে নেমে প্রথম বলেই নিউজিল্যান্ডের সঞ্জু স্যামসনকে হারিয়ে কিছুটা ঝামেলা অনুভব করে ভারত। তবে, এই হোঁচটকে কাটিয়ে উঠতে দ্রুতই আক্রমণে আসেন ইশান কিষাণ ও অভিষেক শর্মা। মাত্র ৩.২ ওভারে ৫৩ রান তুলার পর, ইশান ১৩ বলের মধ্যে ২৮ রান করে আউট হন। তবে, এই মুহূর্তে ব্যাটে ঝড় তুলতে থাকেন অভিষেক। তিনি যুবরাজ সিংয়ের (১২ বলে) পর ভারতের দ্রুততম ফিফটির রেকর্ড গড়েন এবং মাত্র ১৪ বলে ৫টি চার ও ৪টি ছক্কায় হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। অপর প্রান্তে সূর্যকুমার যাদবও থাকেন খুবই বিধ্বংসী। দুই ব্যাটার অবিচ্ছিন্নভাবে ৪০ বলে ১০২ রান যোগ করেন, ফলে দলের জয়ে বড় অবদান রাখেন। অভিষেক ২০ বলে ৭ চার ও ৫ ছয়ে ৬৮ রান করেন, আর সূর্যকুমার ২৬ বলে ৬ চার ও ৩ ছয়ে ৫৭ রান সংগ্রহ করেন।
এর আগে, টস হারিয়ে ব্যাট করতে নেমে ভারতের বোলারদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে নিউজিল্যান্ড শুরুতেই বিপর্যস্ত হয়। জাসপ্রীত বুমরাহ ও রবী বিষ্ণয় দুর্দান্ত বল করে কিউইদের ইনিংসকে আটকে দেন, মাত্র ১৫৩ রানে হারাতে। নিউজিল্যান্ডের জন্য বড় সংগ্রহের স্বপ্ন দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়ায় যখন তাদের প্রথম তিন উইকেট ৩৪ রানেই হারিয়ে যায়। এরপর মার্ক চাপম্যান ও গ্লেন ফিলিপস কিছুটা চেষ্টা করেন, ৩২ রান করে ফিরে যান। শেষ দিকে মিচেল স্যান্টনারের ২৭ রানের সুবাদে ৯ উইকেটে ১৫৩ রান সংগ্রহ করে তারা। ভারতের পক্ষে জাসপ্রীত বুমরাহ ৪ ওভারে মাত্র ১৭ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি, রবী বিষ্ণয় ও হার্দিক পান্ডিয়া ২টি করে উইকেট শিকার করেন। এই পারফরম্যান্স কেবল বল নয়, ব্যাটেও দ্যুতি ছড়িয়ে ভারতকে এক স্মরণীয় জয় উপহার দেয়।






