ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসের আলোকসজ্জায় দেশটির রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে বিশেষ শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। এই শুভেচ্ছা বার্তায় শি জিনপিং উল্লেখ করেছেন, ভারতের সাথে চীনের সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং দু’দেশ বন্ধুত্ব, পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি স্বীকার করেছেন যে, ভারত ও চীন দীর্ঘদিন ধরে একে অপরের ভালো প্রতিবেশী ও অংশীদার হিসাবে কাজ করে আসছে, যা একে অপরের জন্য সুস্থ ও স্থিতিশীল সম্পর্ক বজায় রাখতে বিশেষ ভূমিকা রাখছে। এই সম্পর্কের উষ্ণতা শুধু এশিয়ায় নয়, বরং বৈশ্বিক রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে।
শি জিনপিং বলেন, গত এক বছরে বেইজিং ও নিউডিল্লির মধ্যে সম্পর্ক ধারাবাহিকভাবে উন্নতি করছে, যা এই অঞ্চল ছাড়িয়ে বিশ্ব শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ভবিষ্যৎ উপলক্ষে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, চীন বিশ্বাস করে, ভালো প্রতিবেশী ও বিশ্বস্ত বন্ধু হিসেবে ভারত与চীন একসঙ্গে থাকলে উভয় দেশের জন্য নির্বাচন ফলপ্রসূ হবে। তিনি আখ্যায়িত করেন, “ড্রাগন ও হাতির নৃত্য” অর্থাৎ দুই দেশের সম্পর্কের সুন্দর ও শক্তিশালী চিত্র, যা পারস্পরিক বিনয় ও সহযোগিতার মাধ্যমে আরও দৃঢ় হবে।
উল্লেখ্য, এই দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মধ্যে প্রায় ৩,৮০০ কিলোমিটার লম্বা সীমান্ত রয়েছে, যা ১৯৫০ এর দশক থেকে অমীমাংসিত এবং বিতর্কিত। ২০২০ সালে সীমান্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় ও ৪ জন চীনা সেনা নিহত হওয়ার ঘটনা এই সম্পর্কের মাঝে বড় ফাটল সৃষ্টি করে। তারপর থেকেই উভয় পক্ষের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা বেড়ে যায়। তবে, গত বছর থেকেই উচ্চ পর্যায়ের কূটনৈতিক আলোচনা এবং দ্বিপাক্ষিক সফরের মাধ্যমে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে যায়। এই ধারাবাহিকতাকে ধরে রেখে ২০২৫ সালে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ পুনরায় চালু হয়। বর্তমানে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণাত্মক পররাষ্ট্রনীতি মোকাবেলা করে, ভারত ও চীন নিজেদের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করতে পারস্পরিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ জোরদার করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।






