ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলে ঘটেছে এক মারাত্মক নৌদুর্ঘটনা, যেখানে গভীর রাতের ভয়াবহতা পিছনে রেখে অন্তত ১৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো ২৮ জন যাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ভোররাতে এই ট্রাজেডি সংঘটিত হয়েছে, যেখানে ফিলিপাইন কোস্ট গার্ড ও স্থানীয় উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা দ্রুতগতিতে তিনশো ষোলজনের বেশি মানুষকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হন। এই দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে কোস্ট গার্ড কর্তৃপক্ষ।
আলোচিত জাহাজটির নাম ছিল ‘এমভি ত্রিশা কেরস্টিন ৩’। এটি জাম্বোয়াঙ্গা থেকে সুলু প্রদেশের জোলো দ্বীপের উদ্দেশে যাত্রা করছিল। স্থানীয় সময় রাত ১টা ৫০ মিনিটে গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই ডুবে যায় এই যানটি। দুর্ঘটনার সময় জাহাজের onboard যাত্রীদের সংখ্যা ছিল ৩৩২, ক্রু সদস্য নিয়ে মোট ৩৫৯ জন। এর ধারণক্ষমতা ছিল ৩৫২ জন, যা বোঝায় যে, জাহাজটি কিছুটা বেশি যাত্রী বহন করছিল।
সাউদার্ন মিন্ডানাও ডিস্ট্রিক্টের কোস্ট গার্ডের কমান্ডার রোমেল দুয়া রয়টার্সকে জানান, সাগরের পানি শান্ত থাকায় উদ্ধারকাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে। নিখোঁজরা খুঁজে পেতে ব্যাপক খোঁজাখুঁজি চালানো হচ্ছে। এর পাশাপাশি নৌ ও বিমান বাহিনীও উদ্ধার অভিযানে জাহাজ ও বিমান মোতায়েন করেছে। এখন তদন্ত চালিয়ে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।
আঞ্চলিক গভর্নর মুজিভ হাতামান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্ধারকাজের ভিডিও শেয়ার করেছেন, যেখানে দেখা যায়, মিনদানাোর ইসাবেলা বন্দরে উদ্ধারকৃত যাত্রীদের নামানো হচ্ছে। স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমে তিনি জানিয়েছেন, অধিকাংশ জীবন রক্ষা পান, তবে কয়েকজন বৃদ্ধের অবস্থা শোচনীয়, তাঁদের জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। উদ্ধারতৎপরতার সময় নিখোঁজদের সংখ্যা নির্ণয়ে তালিকা যাচাই-বাছাই চলছে।
ফিলিপাইন সাত হাজারের বেশি দ্বীপে গঠিত দেশ, যেখানে নৌপথ হ’ল পারাপার ও যাত্রার অন্যতম মাধ্যম। তবুও এখানে প্রায়শই মর্মান্তিক নৌদুর্ঘটনা ঘটে, যা দেশের মানুষকে শোকে ভাসায়।






