আগামী অর্থবছর থেকে সরকার সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিধি আরও সম্প্রসারণ করেছে। এর ফলে বিভিন্ন সুবিধাভোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি ভাতার পরিমাণও বাড়ানো হয়েছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বয়স্ক ভাতা কর্মসূচিতে উপকারভোগীর সংখ্যা এক লাখ বৃদ্ধি করে মোট ৬২ লাখে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬০ লাখ প্রবীণ ব্যক্তির মাসিক ভাতা পূর্বের ৬৫০ টাকার পরিবর্তে এখন ৭০০ টাকা হবে। ayrıca, ৯০ বছর বা তার বেশি বয়সের ২ লাখ ৫০ হাজার প্রবীণও মাসে ১ হাজার টাকা ভাতা পাবেন।
একই মন্ত্রণালয়ের আওতায় বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্ত নারীদের ভাতা কর্মসূচিতেও উন্নতি দেখা যাচ্ছে। এই ক্যাটাগরিতে উপকারভোগীর সংখ্যা ২৯ লাখের মধ্যে ২৮ লাখ ৭৫ হাজার নারী এখন থেকে মাসে ৭০০ টাকা ভাতা পাবেন, যা আগে ছিল ৬৫০ টাকা। একই সময়, ৯০ বছরের বেশি বয়সী ২৫ হাজার বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্ত নারীর জন্য মাসিক ১ হাজার টাকা ভাতা ঘোষণা করা হয়েছে।
প্রতিবন্ধী ও শিক্ষার্থীদের জন্যও কর্মসূচির পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ভাতা ও উপবৃত্তির জন্য মোট ৩৬ লাখের মধ্যে ৩৫ লাখ ৮১ হাজার ৯০০ জন প্রতিবন্ধী মাসে ৯০০ টাকা পাবেন। বাকি ১৮ হাজার ১০০ জন প্রতিবন্ধী ১ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন। এছাড়া, প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য মাসিক উপবৃত্তির পরিমাণ ৫০ টাকা বাড়িয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে ৯৫০ টাকা, মাধ্যমিকে ১ হাজার টাকা, উচ্চ মাধ্যমিকে ১ হাজার ১০০ টাকা এবং উচ্চশিক্ষায় ১ হাজার ৩৫০ টাকা নির্ধারিত হয়েছে, যা আগের তুলনায় বেশি।
পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের জন্য উপকারভোগীর সংখ্যা ৭ হাজার বাড়িয়ে বর্তমানে মোট ২ লাখ ২৮ হাজার ৩৮৯ জনে উন্নীত করা হয়েছে। এরই সঙ্গে তাদের মাসিক ভাতা ৬৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০০ টাকা নির্ধারিত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য এই ক্যাটাগরির উপবৃত্তি ও মেধা উপবৃত্তির সংখ্যা ৩ হাজার ১৯৮ জন বাড়িয়ে মোট ৪৫ হাজার ৩৩৮ জনে পৌঁছেছে। এই শিক্ষার্থীরা প্রাথমিক পর্যায়ে কাটে ৭০০ টাকা, মাধ্যমিকে ৮০০ টাকা, উচ্চ মাধ্যমিকে ১ হাজার টাকা, ও উচ্চশিক্ষায় ১ হাজার ২০০ টাকা করে মাসিক উপবৃত্তি বা মেধা উপবৃত্তি পাবেন।
এছাড়াও, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর ৫ হাজার ৪৯০ জনকে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দেওয়ার বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য খাতে, ক্যানসার, কিডনি রোগ, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকজনিত পক্ষাঘাত, জন্মগত হৃদরোগ ও থ্যালাসেমিয়া রোগীদের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রকল্পের সুবিধাভোগীর সংখ্যা ৫ হাজার বাড়িয়ে মোট ৬৫ হাজারে নিয়ে আসা হয়েছে। একইসঙ্গে, এককালীন চিকিৎসা সহায়তার অংক ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচিতে উপকারভোগীর সংখ্যা ১ লাখ ২৪ হাজার বাড়িয়ে মোট ১৮ লাখ ৯৫ হাজার ২০০ জনে উন্নীত হয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় প্রত্যেক মা মাসে ৮৫০ টাকা করে ভাতা পান।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় জনসংখ্যা বাড়িয়ে উপকারভোগী পরিবারعدد ৫ লাখ বাড়িয়ে মোট ৬০ লাখ পরিবারে পৌঁছেছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে একসঙ্গে ছয় মাসের জন্য প্রতি মাসে ৩০ কেজি চাল ১৫ টাকা কেজি দরে সরবরাহ করা হয়।
গত রোববার, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বিষয়ক উপদেষ্টা পরিষদ বোর্ডের ৩২তম বৈঠকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতায় বীরত্বসূচক খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের জন্য মাসিক ভাতা ৫ হাজার টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি, শহীদ ও আহত মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারকে জুলাই গনঅভ্যুত্থানে বিশেষ সম্মানী চালু এবং তাদের সুবিধা মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ভিজিএফ কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে আরও ২ লাখ ৭৩ হাজার ৫১৪ জন জেলেকে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনাও অনুমোদন পেয়েছে। এর মাধ্যমে মোট জেলেদের সংখ্যা ১৫ লাখে উন্নীত হবে।






