দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পর বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের সরাসরি আকাশপথের যোগাযোগ পুনরায় স্থাপিত হচ্ছে। আগামী বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালু করবে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে দুই দেশের যাত্রীরা দীর্ঘ সময় ও খরচ বাঁচাতে সক্ষম হবেন, যা দেশের মধ্যে যোগাযোগ ও ব্যবসার ক্ষেত্রে এক নতুন দিক খুঁজে দেবে।
২০১২ সালে নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণ দেখিয়ে এই রুটে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ হওয়ার পর থেকে দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে এই সংযোগস্থাপন বন্ধ ছিল। তবে এখন খুব দ্রুত, মাত্র তিন ঘণ্টার মধ্যে করাচির গন্তব্যে পৌঁছানো যাবে—যা আগে ট্রানজিট ও বিকল্প পথের কারণে অনেক বেশি সময় এবং অসুবিধার সৃষ্টি করত।
বিমান বাংলাদেশের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক বোসরা ইসলাম জানিয়েছেন, প্রথম ফ্লাইটের সকল টিকিট ইতিমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে, এবং দ্বিতীয় ফ্লাইটের অধিকাংশ আসনও বুকিং reciben। এই সরাসরি ফ্লাইট চালুর ফলে যাত্রীরা দোহার, দুবাই বা অন্য ট্রানজিট কেন্দ্রীক জটিলতা থেকে মুক্তিস্থিতিতে ভ্রমণ করতে পারবেন। পাশাপাশি, ভ্রমণের খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। আগে যেখানে রাউন্ড ট্রিপের জন্য অন্তত ৭৫ হাজার থেকে ৯০ হাজার পর্যন্ত অর্থ খরচ হতো, এখন সরাসরি ট্রিপে সেটি কমে প্রায় ৫১ হাজার টাকায় পৌঁছেছে, ফলে যাত্রীদের অন্তত ৩০ থেকে ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত সাশ্রয় হবে।
বিশ্লেষকরা এই রুটের পুনরায় চালু হওয়া কৌশলগত ও বাণিজ্যিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন। দ্য বাংলাদেশ মনিটরের সম্পাদক কাজী ওয়াহিদুল আলমের মতে, এই সরাসরি ফ্লাইটের ফলে না শুধুমাত্র যাত্রী ও পণ্য পরিবহন সহজ হবে, বরং দুই দেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্কও আরো দৃঢ় হবে। এতে করে পাকিস্তান থেকে পর্যটন খাতে ব্যাপক রেভিনিউ আসবে, যা বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্যও নতুন গন্তব্যের দ্বার খুলে দেবে।
চলতি বছরের থানায় এই ফ্লাইট চালুর মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও পর্যটন খাতের গতি আরও বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। দীর্ঘ ট্রানজিটের ঝামেলা ও অতিরিক্ত খরচ কমিয়ে দ্রুত ও লাভজনক ভ্রমণের সুযোগ সৃষ্টি করবে এই নতুন সংযোগ। আশা করা যাচ্ছে, এই উদ্যোগ আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থাকেও শক্তিশালী করবে, এবং দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা আরও মজবুত হবে বলে ধারণা বিশ্লেষকদের।






