সরকার সাতক্ষীরা জেলাকে ‘বি’ থেকে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে উন্নীত করেছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে জেলার প্রশাসনিক গুরুত্ব বৃদ্ধি পাবে, পাশাপাশি সরকারি জনবল ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার ব্যাপক উন্নয়ন হবে। গতকাল মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এই সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করেছে। এই মর্মে বলা হয়েছে, ২০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার) এর ১১৯তম সভায় প্রধানমন্ত্রী সভাপতিত্বে জেলার মর্যাদা পরিবর্তনের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রিপরিষদ এই প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
নতুন মর্যাদার ভিত্তিতে, এখন প্রশাসন প্রয়োজনীয় জনবল নিযুক্তি এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুবিধাদি নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যক্রম শুরু করবে। সরকারের মতে, জেলাটির এই মর্যাদা পরিবর্তনের পেছনে বেশ কিছু যৌক্তিক কারণ রয়েছে। নিকার সভায় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে সাতক্ষীরা বর্তমানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই জেলায় অবস্থিত বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন, সুন্দরবনের এক অংশ। পাশাপাশি ভোমরা স্থলবন্দর দেশের অন্যতম প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ বন্দর হিসেবে বিবেচিত হয়ে উঠেছে, যা জাতীয় অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখছে। এসব কারণের ওপর ভিত্তি করে জেলার মর্যাদা উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনিক নিয়ম অনুযায়ী, জেলার শ্রেণি নির্ধারণের জন্য সাধারণত উপজলার সংখ্যাই বিবেচনা করা হয়। যেখানে ৮টির বেশি উপজেলা রয়েছে, সেই জেলাগুলোকে ‘এ’ ক্যাটাগরি, ৫-৭টি থাকলে ‘বি’ ক্যাটাগরি এবং ৫টির কম থাকলে ‘সি’ ক্যাটাগরি ধরা হয়। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে সরকার অতিরিক্ত গুরুত্ব বিবেচনায় উচ্চতর ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত করে। এই দৃষ্টান্তে, সাতক্ষীরাও বিশেষ বিবেচনায় মর্যাদার পরিবর্তন পেয়েছে।
৭০-এ ২০২০ সালে জেলাগুলোর শ্রেণি হালনাগাদ করা হলেও, দীর্ঘ সময় পর এই পরিবর্তন স্থানীয় প্রশাসনে নতুন গতি ও উদ্যম আনবে বলে মনে করা হচ্ছে। এর ফলে জেলা পর্যায়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামো উন্নয়নে বরাদ্দ ও জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে সুবিধা বাড়বে। প্রশাসনিক এই সিদ্ধান্ত সম্ভবত সাতক্ষীরা জেলার সামগ্রিক উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য এক বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।






