বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, নারী ও পুরুষের মধ্যে প্রকৃতিগত এবং সৃষ্টিগত কিছু মৌলিক পার্থক্য বিদ্যমান থাকায় কোনো নারী কখনোই দলটির প্রধান হতে পারবেন না। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন। এই সাক্ষাৎকারে তিনি জামায়াতের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব, জাতীয় নির্বাচনে নারীর অংশগ্রহণ এবং বাংলাদেশের অতীত রাজনীতিতে নারী নেতৃত্বের বিষয়গুলো নিয়ে নিজের ও দলের অবস্থান স্পষ্ট করেন।
নারীরা কেন জামায়াতের প্রধান হতে পারবেন না, তার ব্যাখ্যায় ডা. শফিকুর রহমান জৈবিক ও আল্লাহ প্রদত্ত পার্থক্য বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এটি সম্ভব নয় কারণ আল্লাহ প্রত্যেককে ভিন্ন ভিন্ন সত্তা দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। তিনি মাতৃত্বকালীন বৈশিষ্ট্যের উল্লেখ করে বলেন, পুরুষরা কখনোই সন্তান ধারণ করতে পারবেন না কিংবা শিশুকে বুকের দুধ পান করাতে পারবে না। শফিকুর রহমানের মতে, এই সৃষ্টিগত পার্থক্যগুলো কেউই পরিবর্তন করতে পারে না, এই কারণেই জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্বে নারীর প্রবেশের সুযোগ নেই।
সাক্ষাৎকারে তাকে প্রশ্ন করা হয় যে, কেন জামায়াতের পক্ষ থেকে কোনো নারী প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হয় না। তিনি জানান, আসন্ন সংসদ নির্বাচনে তারা একটিও নারী প্রার্থী মনোনয়ন দেয়নি। তবে তিনি দাবি করেন, এটি কোনো স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা নয়; তারা এখনো এই বিষয়ের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি আরো বললেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তাদের নারী কর্মীরা ইতিবাচক অংশগ্রহণ করে জয়ীও হয়েছেন। সংসদ নির্বাচনে নারীর সংখ্যাগরিষ্ঠতা কমের কারণ হিসেবে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটকেই তিনি দেখছেন এবং অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষেত্রেও এমনটাই দেখা যায় বলে মনে করেন।
অন্যদিকে, যখন সাংবাদিক যুক্তি দেন যে, নারীরা যদি ১৭ কোটির দেশে প্রধানমন্ত্রী হয়ে সফল হতে পারেন, তবে কেন কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের প্রধান হওয়ার যোগ্যতা নেই—তখন জামায়াতের আমির একে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট হিসেবে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, পৃথিবীর অধিকাংশ দেশ নারী নেতৃত্বকে সব ক্ষেত্রে সম্ভব মনে করে না এবং হাতেগোনা কয়েকটি দেশেই এর নজির রয়েছে। এটি বাংলাদেশের বিষয় নয়, বরং এটি একটি বিশ্বজনীন বাস্তবতা।
এরপর আলোচনাটি বিএনপি এবং জামায়াতের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক জোটের দিকে এগোলে, সাংবাদিক বেগম খালেদা জিয়ার প্রধানমন্ত্রীত্বের প্রসঙ্গ টেনে আনা হয়। খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকাকালে ভালো কাজ করেছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. শফিকুর রহমান সরাসরি কোনো মূল্যায়ন করতে রাজি হননি। তিনি কৌশলে বলেন, তাকে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত বা ক্ষমতায় রাখার সিদ্ধান্ত ছিল বিএনপির; এটি জামায়াতের সিদ্ধান্ত নয়। জামায়াত কেবল মধুরূপে ওই সরকারের সঙ্গে রাজনৈতিক জোটে ছিল।
সামগ্রিকভাবে, ডা. শফিকুর রহমানের এই বক্তব্য আবারো দলটির কঠোর রক্ষণশীল মূল্যবোধ এবং আধুনিক নেতৃত্বের ধারণার মধ্যে পার্থক্যকে তুলে ধরেছে।






